

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বৃষ্টি কখন নামবে, কোথায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কিংবা তাপমাত্রা কতটা ওঠানামা করবে-এসব তথ্য আরও দ্রুত ও নির্দিষ্টভাবে জানাতে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল উন্মোচন করেছে গুগল। ‘ওয়েদারনেক্সট ৩’ নামের মডেলটি প্রতি ঘণ্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করতে পারে।
একই সঙ্গে আগের সংস্করণের তুলনায় নির্দিষ্ট এলাকার আবহাওয়া বিশ্লেষণেও এটি বেশি সক্ষম।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, নতুন মডেলটি আগের ‘ওয়েদারনেক্সট ২’-এর তুলনায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বেশি সক্ষম। তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বাতাসের গতিবেগের মতো তথ্যও স্থানীয় পর্যায়ে আরও সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করতে পারে ‘ওয়েদারনেক্সট ৩’।
মডেলটির পূর্বাভাস গুগল সার্চ, গুগল ম্যাপস ও জেমিনাইয়ের মতো সেবায় ব্যবহারের পাশাপাশি গবেষণা ও ব্যবসায়িক কাজেও কাজে লাগানো যাবে।
যেসব সুবিধা থাকছে নতুন মডেলে
‘ওয়েদারনেক্সট ৩’-এর উল্লেখযোগ্য সক্ষমতাগুলোর মধ্যে রয়েছে-
* প্রতি ঘণ্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করতে পারে। বৃষ্টির পূর্বাভাসে আগের মডেলের তুলনায় ৬০ শতাংশ উন্নত।
* ‘ওয়েদারনেক্সট ২’-এর তুলনায় ২ দশমিক ৪ গুণ বেশি প্যারামিটার রয়েছে।
* তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পূর্বাভাস ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত সূক্ষ্মতায় দিতে পারে।
* বাতাসের মতো ভূপৃষ্ঠীয় তথ্য ১০ কিলোমিটার সূক্ষ্মতায় বিশ্লেষণ করতে পারে।
* নির্দিষ্ট আবহাওয়া স্টেশনের তথ্য ব্যবহার করতে পারে।
* স্যাটেলাইটের ছবি সরাসরি বিশ্লেষণ করতে পারে।
* প্রতি ঘণ্টায় নতুন স্যাটেলাইট তথ্য যুক্ত করা যায়।
* দ্রুত পূর্বাভাসে এআই
এত দিন আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরিতে মূলত শক্তিশালী কম্পিউটারে জটিল গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হতো। এতে ভালো ফল পাওয়া গেলেও পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ এবং বিপুল কম্পিউটিং শক্তিনির্ভর।
এআই প্রযুক্তি আবহাওয়ার পুরোনো বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে তুলনামূলক দ্রুত পূর্বাভাস তৈরির সুযোগ করে দিয়েছে। গুগল ডিপমাইন্ডের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়েদারনেক্সট ৩’ একটি বৈশ্বিক আবহাওয়া মডেল। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৃষ্টি বা তুষারের মতো পরিস্থিতিতে ঘন ঘন পূর্বাভাস হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে এর সক্ষমতা বিশেষভাবে কাজে আসতে পারে।
কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সম্ভাবনা
নির্দিষ্ট এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরও সূক্ষ্ম হওয়ায় কৃষি, নৌপরিবহণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রেও মডেলটি ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষ করে ঝড়, ভারী বৃষ্টি বা আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের আগে দ্রুত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এর ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে।
স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি সরাসরি বিশ্লেষণ করতে পারাও মডেলটির বড় সুবিধা। প্রতি ঘণ্টায় নতুন পর্যবেক্ষণ তথ্য যুক্ত করার সুযোগ থাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করে পূর্বাভাস হালনাগাদ করা সম্ভব হবে।

