

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা বড় আকারের গ্রহাণুর সম্ভাব্য আঘাত ঠেকাতে নতুন এক পদ্ধতির কথা জানিয়েছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, চরম পরিস্থিতিতে কোনো বড় গ্রহাণুর ভেতরে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটির গতিপথ পরিবর্তন বা ধ্বংস করা সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহাণুর আঘাত পৃথিবীর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। অতীতে মহাকাশ থেকে আসা বিশালাকার বস্তুর আঘাতে পৃথিবীর পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে এবং বহু প্রজাতির বিলুপ্তির ঘটনাও ঘটেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর কাছাকাছি দিয়ে অতিক্রম করা কয়েক শ মিটার পর্যন্ত ব্যাসের অনেক গ্রহাণু শনাক্ত করেছেন। তবে পৃথিবীর আশপাশে থাকা অনেক বড় গ্রহাণু এখনো অজানা রয়ে গেছে। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘর্ষের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার সময় পাওয়া যেতে পারে মাত্র কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনে এর আগে নাসার ডার্ট (DART) মিশনের মতো প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কয়েক শ মিটার ব্যাসের বড় গ্রহাণুর ক্ষেত্রে অল্প সময়ে এসব পদ্ধতির কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে।
চায়না একাডেমি অব লঞ্চ ভেহিকেল টেকনোলজির গবেষকেরা বলছেন, বড় গ্রহাণুর ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে পারমাণবিক বিস্ফোরণ একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। ‘স্পেস: সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় তাঁরা এ বিষয়ে একটি নতুন কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন।
গবেষণায় একটি কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যেখানে একটি মহাকাশযান প্রথমে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রহাণুর গভীরে একটি গর্ত তৈরি করবে। এরপর সেই স্থানে পারমাণবিক বিস্ফোরক স্থাপন করে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে।
গবেষকেরা বিভিন্ন শক্তির বিস্ফোরক, বিস্ফোরণের গভীরতা, মহাকাশযানের গতি এবং গ্রহাণুর বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, হিরোশিমায় ব্যবহৃত পারমাণবিক বোমার তুলনায় প্রায় ২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ১০০ মিটার ব্যাসের একটি গ্রহাণুকে ভেঙে ফেলতে সক্ষম হতে পারে। একই সঙ্গে গ্রহাণুর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ মিটার গভীরে বিস্ফোরণ ঘটালে অগভীর বিস্ফোরণের তুলনায় এর গতিপথ পরিবর্তনের ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়তে পারে।
তবে গবেষকেরা বলছেন, এটি মূলত চরম পরিস্থিতির জন্য একটি প্রতিরোধমূলক পরিকল্পনা। পর্যাপ্ত সময় হাতে থাকলে অন্য প্রযুক্তিগত পদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু কোনো বড় গ্রহাণু খুব অল্প সময়ের সতর্কবার্তায় পৃথিবীর দিকে এগিয়ে এলে পারমাণবিক বিস্ফোরণই কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণু শনাক্ত ও মোকাবিলার প্রস্তুতিতে এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতের মহাকাশ নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।