

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমরা প্রায়ই শুনি, প্রেশার কুকারে আস্ত তেজপাতা দিলে নাকি সেটি বিস্ফোরিত হতে পারে। বিষয়টি শুনতে গুজব মনে হলেও, এর পেছনে একটি খাঁটি বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।
প্রেশার কুকার মূলত ভেতরের তরলকে বাষ্পে পরিণত করে উচ্চচাপ সৃষ্টির মাধ্যমে দ্রুত খাবার সেদ্ধ করে। আর এই অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ঢাকনায় একটি ছোট ছিদ্র বা ভেন্ট থাকে, যা দিয়ে বাষ্প বের হয়ে যায়।
তেজপাতা অন্য মসলার মতো সহজে গলে বা ভেঙে যায় না, এটি বেশ শক্ত, চওড়া ও পাতলা হয়। রান্নার সময় পানির বুদবুদ ও বাষ্পের টানে এই পাতা ভেসে ওপরে উঠে আসতে পারে।
কাকতালীয়ভাবে পাতাটি যদি বাষ্প বের হওয়ার ওই ছোট্ট ছিদ্রের মুখে গিয়ে আটকে যায়, তবে ভেতরের বাতাস বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে কুকারের ভেতরে খুব দ্রুত বিপজ্জনক মাত্রায় চাপ বাড়তে থাকে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আধুনিক কুকারে তো 'সেফটি ভালভ' থাকে, তাহলে ভয় কিসের? সাধারণত ভেন্ট বন্ধ হয়ে গেলে এই সেফটি ভালভ গলে বা খুলে গিয়ে বাষ্প বের করে দেয়।
কিন্তু ভালভটি যদি পুরোনো, ত্রুটিপূর্ণ বা ময়লা জমে জং ধরা থাকে, তবে সেটি সময়মতো কাজ নাও করতে পারে।
এই কারণেই প্রেশার কুকার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের নির্দেশিকায় বড় পাতা বা অতিরিক্ত ফেনা তৈরি করে এমন খাবার রান্নার সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলে।
তবে এর মানে এই নয় যে প্রেশার কুকারে তেজপাতা ব্যবহার করা যাবে না। সামান্য সচেতনতাই এই ঝুঁকি সম্পূর্ণ দূর করতে পারে। যেমন-
টুকরো করে কাটা: তেজপাতা আস্ত না দিয়ে দুই-তিন টুকরো করে ভেঙে দিলে তা আর ছিদ্র মুখ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে না।
নিচে চাপা দেওয়া: মাংস বা আলুর মতো ভারী উপাদানের নিচে পাতাটি রাখলে তা সহজে ভেসে ওপরে উঠতে পারে না।
পরিমাণ ঠিক রাখা: কুকারের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি খাবার বা পানি দেওয়া উচিত নয়, যাতে বাষ্প চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা থাকে।
নিয়মিত পরিষ্কার: প্রতিবার রান্নার আগে ভেন্ট ও সেফটি ভালভ পরিষ্কার আছে কি না তা পরীক্ষা করা জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, প্রেশার কুকারে তেজপাতা দিলেই প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটবে- এমন ধারণা ভুল। তবে অসচেতনতার কারণে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঝুঁকি তৈরি হতেই পারে।
তাই আতঙ্কিত না হয়ে, রান্নার সময় এই ছোট ছোট নিয়মগুলো মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
