শুক্রবার
১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুক হঠাৎ বন্ধ হলে মানুষের মধ্যে কেন অস্থিরতা কাজ করে?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০৮:২০ পিএম আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
এনপিবি কোলাজ
expand
এনপিবি কোলাজ

ফেসবুক বা যেকোনো জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের মধ্যে যে তীব্র অস্থিরতা, উদ্বেগ বা ছটফটানি তৈরি হয়, মনস্তত্ত্বের ভাষায় এর পেছনে বেশ কিছু গভীর কারণ রয়েছে। এটিকে অনেকেই আধুনিক যুগের "ডিজিটাল উইথড্রয়াল সিন্ড্রোম" (Digital Withdrawal Syndrome) বলে থাকেন।

ডোপামিন ও আসক্তি (Dopaminergic Loop)

আমরা যখন ফেসবুকে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার বা স্ক্রোল করি, তখন আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক একটি ‘ফিল গুড’ হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি এক ধরণের সাময়িক আনন্দ দেয়। হঠাৎ ফেসবুক বন্ধ হলে মস্তিষ্ক তার নিয়মিত ডোপামিনের উৎসটি হারিয়ে ফেলে। ফলে মাদকাসক্ত ব্যক্তি মাদক না পেলে যেমন অস্থিরতায় ভোগেন, ঠিক তেমনি একটি তীব্র ছটফটানি তৈরি হয়।

আবার অনেকের জন্যই ফেসবুক তাদের একাকীত্ব কাটানোর একমাত্র মাধ্যম। আবার অনেকের আত্মপরিচয় বা ‘অনলাইন ইমেজ’ গড়ে ওঠে এই প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে। যখন এটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষ আচমকা এক ধরণের শূন্যতা এবং তীব্র একাকীত্ব অনুভব করে। মনে হয় যেন চারপাশের চেনা জগৎ থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

বর্তমান যুগে শুধু আড্ডা নয়, অফিসিয়াল গ্রুপ, পড়াশোনা, ব্যবসা (এফ-কমার্স) এবং পারিবারিক যোগাযোগের একটা বড় অংশ নিয়ন্ত্রিত হয় ফেসবুক বা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে। অ্যাপটি কাজ না করলে অনেক জরুরি কাজ থমকে যায়, যা মানুষের মধ্যে এক ধরণের অসহায়ত্ব এবং রাগ (Frustration) তৈরি করে।

অনেকেরই অভ্যাস থাকে সকালে ঘুম থেকে উঠে বা কাজের ফাঁকে প্রতি ৫ মিনিট পর পর ফোন হাতে নিয়ে ফেসবুক চেক করা। একে বলে ‘পেশীস্মৃতি’ বা রিফ্লেক্স। ফেসবুক বন্ধ থাকলেও হাত বারবার ফোনের দিকে চলে যায় এবং অ্যাপটি না খুললে এক ধরণের মানসিক অস্বস্তি তৈরি হয়।

ফেসবুক হঠাৎ বন্ধ হওয়াটা কেবল একটি অ্যাপ বন্ধ হওয়া নয়, বরং আধুনিক মানুষের কাছে এটি এক ধরণের সামাজিক এবং মানসিক সংযোগ বিচ্ছিন্নতা। এই আকস্মিক শূন্যতাই মানুষের মধ্যে তীব্র অস্থিরতার জন্ম দেয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন