

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ক্যালসিয়াম শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। হাড় ও দাঁত মজবুত রাখার পাশাপাশি স্নায়ু, মাংসপেশি ও হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও এটি প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে হাড় দুর্বল হয়ে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে শরীরে একটু ব্যথা হলেই বা বয়স বাড়লেই নিজের ইচ্ছায় ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাওয়া ঠিক নয়। প্রতিদিনের খাবার থেকেই অনেকটা ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে।
সাধারণভাবে একজন প্রাপ্তবয়স্কের প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হতে পারে। মেনোপজের পর নারীদের এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন কিছুটা বেড়ে ১ হাজার ২০০ মিলিগ্রাম হতে পারে। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদেরও পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম নিশ্চিত করা জরুরি।
ক্যালসিয়াম শরীরে শোষণের জন্য ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যের আলো ভিটামিন ডির একটি উৎস। তাই শুধু ক্যালসিয়াম খেলেই হবে না, শরীরে ভিটামিন ডির পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
দুধ, দই, পনির, ছোট মাছ, শাকসবজি, বাদাম, সয়াবিন, টফু, বীজ ও কিছু ফল ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। বিশেষ করে কাঁটাসহ ছোট মাছ খেলে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে নিয়মিত ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা গেলে অনেকের ক্ষেত্রেই আলাদা ট্যাবলেটের প্রয়োজন হয় না।
ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে, খাবার থেকে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম না পেলে বা বিশেষ কিছু শারীরিক অবস্থায় চিকিৎসক ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়।
অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের অস্বস্তি এবং কিছু ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আগে কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস থাকলে বিশেষ সতর্ক থাকা দরকার।
একবারে বেশি পরিমাণ ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলে শরীর সবটা শোষণ করতে পারে না। তাই চিকিৎসক সাপ্লিমেন্ট দিলে নির্ধারিত মাত্রা ও নিয়ম মেনে খাওয়া উচিত। একই সঙ্গে কিছু ওষুধ ক্যালসিয়ামের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নিয়মিত কোনো ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসককে তা জানানো প্রয়োজন।
শিশু-কিশোরদের হাড়ের গঠন ও ভবিষ্যৎ হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ছোটবেলা থেকেই দুধ, দই, ছোট মাছ, শাকসবজি, বাদামসহ ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো।
ক্যালসিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও বেশি খাওয়া ভালো নয়। খাবার থেকে চাহিদা পূরণের চেষ্টা করুন এবং সাপ্লিমেন্টের প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।



