

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করলেই হবে না। খাবারের ধরন, পরিমাণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন ও রক্তের শর্করার মাত্রার দিকেও নজর দিতে হবে। জীবনযাপনে কিছু সহজ পরিবর্তন নিয়মিত মেনে চললে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং এর নানা জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর একসঙ্গে বেশি খাবার খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কতটুকু খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে রক্তে শর্করা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হতে পারে।
খাদ্যতালিকায় গোটা শস্য, লাল আটার রুটি, ঢেঁকিছাঁটা চাল, শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার রাখতে পারেন। আলু খেলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং ভাত বা রুটির পরিবর্তে আলুকে কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা ভালো।
অতিরিক্ত লবণ, চর্বিযুক্ত খাবার ও ভাজাপোড়া খাবার কমিয়ে দিন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত শাকসবজি এবং পরিমিত পরিমাণ ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন।
চিনি বা অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত কোমল পানীয় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো নয়। ফাস্টফুডের পাশাপাশি অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারও কমিয়ে দিন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
দাওয়াত, পারিবারিক অনুষ্ঠান বা বাইরে খাওয়ার সময় অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয়, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলুন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা সহজ ও কার্যকর একটি ব্যায়াম। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটা বা অন্য ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
কম্পিউটার বা ডেস্কে দীর্ঘ সময় কাজ করলে মাঝেমধ্যে উঠে দাঁড়ান এবং কয়েক মিনিট হাঁটাচলা করুন। অতিরিক্ত সময় টিভি দেখা, গেম খেলা কিংবা বসে থাকার অভ্যাস কমিয়ে দিন।
ক্ষুধা লাগলে অতিরিক্ত চিপস বা মিষ্টিজাতীয় খাবারের বদলে শসা বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে পারেন।
ধূমপান শুধু ফুসফুসের জন্য নয়, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির জন্যও ক্ষতিকর। ডায়াবেটিস থাকলে ধূমপানের কারণে বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই ধূমপান সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন।
রক্তের গ্লুকোজ, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান এবং নির্ধারিত ওষুধ নিয়ম মেনে সেবন করুন।
ডায়াবেটিসের চিকিৎসা সবার জন্য এক নয়। তাই নিজের ইচ্ছায় ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন বা বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। পরিমিত খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান বর্জন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য সাধারণ ধারণার জন্য। ডায়াবেটিসের ওষুধ বা খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



