শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

 রাতে হঠাৎ শ্বাস আটকে ঘুম ভেঙে যাওয়া হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ক্লান্তি বা গভীর ঘুমের কারণে রাতে নাক ডাকা খুবই সাধারণ বিষয় বলে মনে করেন অনেকে। তবে প্রাত্যহিক এই অভ্যাসটিই হতে পারে অকালমৃত্যুর কারণ। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত নাক ডাকার প্রবণতা ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, শরীরচর্চা বা আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হওয়া তরুণরাও এই সমস্যার কারণে অজান্তেই হৃদরোগের দিকে ধাবিত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সময় নাক ডাকা আসলে শ্বাস চলাচলের পথে বাধার একটি স্পষ্ট সংকেত। যখন নাক বা গলার ভেতরের বায়ুপথ আংশিক রুদ্ধ হয়, তখনই শব্দের সৃষ্টি হয়। এর ফলে শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। এই ঘাটতি পূরণে হৃদযন্ত্রকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ মেয়াদে এই চাপ হৃদপিণ্ডের স্থায়ী ক্ষতি করে।

নাক ডাকার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’র মতো জটিল সমস্যা। এই রোগে ঘুমের মধ্যে কয়েক সেকেন্ডের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, যা হৃদযন্ত্রের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। অনেক সময় নিয়মিত জিম করা বা স্বাস্থ্য সচেতন তরুণরাও এই সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেন না, ফলে তাদের শরীরে নিঃশব্দে হৃদরোগ বাসা বাঁধে।

তবে সব ধরনের নাক ডাকা বিপজ্জনক না হলেও কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি: সেগুলো হলো-

১. রাতে হঠাৎ শ্বাস আটকে ঘুম ভেঙে যাওয়া।

২. ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথা।

৩. পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সারাদিন ক্লান্তি ও অবসাদ বোধ করা।

চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এনে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এক্ষেত্রে চিৎ হয়ে না শুয়ে একপাশে কাত হয়ে ঘুমানো, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ধূমপান বর্জন করা এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

তবে সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হলে কালক্ষেপণ না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ‘স্লিপ স্টাডি’ বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X