

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন নয়টি আন্তর্জাতিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন। সোমবার (১৬ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়ে দেশজুড়ে বিদ্যমান জরুরি মানবাধিকার চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ এই সংগঠনগুলো।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবিত করবে প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপ। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব এমন এক সময়ে, যখন বাংলাদেশের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটছে। সংস্থাগুলো বলেছেন, ‘আপনার পদক্ষেপগুলো আগামী বহু বছর ধরে মানুষের অধিকার পরিস্থিতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।’
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘জোরপূর্বক নিখোঁজ বা গুমের ঘটনা তদন্ত, বিচার এবং প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনও অন্তত ২৮৭ জন মানুষের পরিবার তাদের প্রিয়জনের অবস্থান জানার জন্য অপেক্ষা করছেন। এর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার হবে। বিশেষ করে মামলার তদন্ত এবং ভবিষ্যৎ নির্যাতন প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এতে আরও বলা হয়, যদিও পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে অনেক মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ হয়েছে, তবুও কিছু ব্যাপক আটক ও নির্বিচার ঘটনা অব্যাহত ছিল। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিছুটা উন্নত হলেও সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হামলা ও গ্রেপ্তার ঝুঁকি তৈরি করেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষা, নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখা বর্তমানে জরুরি।
চিঠিতে নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু লঙ্ঘনের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে, যেমন চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে হামলা ও নির্যাতন। এছাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কক্সবাজারের শিবির এবং ভাসান চর এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শরণার্থীদের জীবন, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তার সুযোগ সীমিত।
সংস্থাগুলো উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ এমন এক সময়ে, যখন কৌশলগত, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক আইনের চ্যালেঞ্জ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষের অধিকার বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি বিদ্যমান। যদিও সরকারকে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো অগ্রাধিকারে রাখতে হয়, তথাপি বাংলাদেশকে উচিত মানবাধিকার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক স্তরেও সক্রিয় ভূমিকা রাখা।
চিঠিতে একাধিক সুপারিশ তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বকালকে ইতিবাচক পরিবর্তনের সময় হিসেবে গড়ে তুলতে পদ্ধতিগত সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে আইন ও অধ্যাদেশ সংশোধন বা বাতিলের মাধ্যমে মানবাধিকার মানদণ্ড রক্ষা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সুপারিশ অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিঠিতে স্বাক্ষর করা মানবাধিকার সংস্থাগুলো হলো, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, সিভিকাস: ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন, এফআইডিএইচ, ফর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট অ্যান্ড ইথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।
মন্তব্য করুন
