সোমবার
১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেন বাবার সেই প্রতিচ্ছবি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া। সকাল থেকেই রাস্তার দুই পাশে মানুষের ভিড় চোখে পড়ার মতো।

শিশু-কিশোর, গৃহবধূ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাই হাত নেড়ে স্বাগত জানাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে। আজ এই গ্রামটি শুধু জনসমুদ্রের কারণে নয়, ইতিহাসের এক দীর্ঘসূত্রের পুনরাবৃত্তির কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

প্রায় পাঁচ দশক আগে, ১৯৭৭ সালে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল হাতে নিয়ে সাহাপাড়া খাল খননের কাজ শুরু করেছিলেন।

স্থানীয় কুলসুম বেগম, বয়স ৭৪, স্মৃতিচারণ করে বলেন, বাবার মতোই ছেলে খাল কাটছে। শহীদ জিয়া মানুষজনকে নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল কাটার কর্মসূচিতে যোগ দিতেন। এখন তারেক রহমান সেই পথ অনুসরণ করছেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে তারেক রহমান খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুরু হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি। একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪টি জেলার খাল খনন কার্যক্রমও উদ্বোধন করেন।

এদিন সকাল ১০টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে নেতাকর্মীদের ফুলেল অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি সৈয়দপুর শহর অতিক্রম করে দিনাজপুরের বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় রওনা হন। পথে স্থানীয়রা হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান, আর উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে শহরজুড়ে।

স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে খালের বেহাল দশা নিয়ে উদ্বিগ্ন। শিউলী খাতুন নামের এক গৃহবধূ বলেন, খালটি পুনঃখনন হলে আমাদের জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হবে। শহরের পানিপ্রবাহ আগের মতো থাকবে না, বর্ষার সময়ে জলাবদ্ধতা কমবে।

খালটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা পুনর্ভবা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। নদীর পানি ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করে, পরে মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিশে যায়। খাল পুনঃখনন হলে স্থানীয় কৃষিজমির সেচ সুবিধা উন্নত হবে, মাছ চাষ ও হাঁস-পালনের মতো খালনির্ভর অর্থনীতি বৃদ্ধি পাবে এবং বনায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় শিক্ষার্থী আল আমিন বলেন, খালে পানি থাকলে মাছ চাষ করা যাবে, খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ হলে সুবজ বনায়ন হবে। এটি গ্রামকে নতুন দিক দেবে।” আর অনিতা নামের এক নারী স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননে অংশ নিতে পেরে বললেন, আজকে আমাদের খুশির দিন। আমাদের লিডার এসেছে, আমাদের হৃদয়ের আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা শুধু খাল পুনঃখনন হিসেবে দেখছেন না; তারা এটিকে পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও ইতিহাসের সাথে সংযোগের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

এদিনের কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুর গোরস্তানে নিকটাত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন