

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জ্বর মূলত কোনো আলাদা রোগ নয়, এটি শরীরের ভেতরে কোনো জীবাণুর সংক্রমণের লক্ষণ মাত্র। সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং তিন দিনের মধ্যে তা নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। তবে সব জ্বরকে একভাবে দেখা বা অবহেলা করা উচিত নয়। কখন জ্বর নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
জ্বরের সাথে নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে:
ঝুঁকিতে কারা বেশি?
শিশু, বয়স্ক এবং ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা (যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি, লিভার, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে) জ্বরে আক্রান্ত হলে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
৪টি মারাত্মক বা প্রাণঘাতী জ্বর
১. ডেঙ্গু
বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক রূপ নিতে পারে। অনেক সময় সাধারণ ডেঙ্গুর লক্ষণ ছাড়াই রোগীর অবস্থা হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে, পালস বা রক্তচাপ পাওয়া যায় না।
এছাড়া হেমারেজিক ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে নাক, দাঁতের মাড়ি, চোখ কিংবা মুখ ও মলদ্বার দিয়ে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হতে পারে, যা ব্রেইন বা হার্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে ডেঙ্গুর জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
২. ইয়োলো ফিভার বা হলুদ জ্বর
এডিসসহ নির্দিষ্ট কিছু মশার কামড়ে এই জ্বর ছড়ায়। শুরুর দিকে জ্বর, মাংসপেশী ও মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব থাকে। তবে পরিস্থিতি গুরুতর হলে দ্বিতীয় ধাপে রোগীর প্রচণ্ড জ্বর আসে, জন্ডিস হয় (ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যায়), লিভার ও কিডনি আক্রান্ত হয় এবং মুখ, নাক বা চোখে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এই পর্যায়ে পৌঁছানো রোগীদের অর্ধেকই মারা যেতে পারে। তবে এই জ্বর টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
৩. ম্যালেরিয়া
অ্যানোফিলিস মশার কামড় কিংবা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত বা সুঁচ ব্যবহারের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। ঠান্ডাসহ জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি এবং নিঃশ্বাসের সমস্যা ম্যালেরিয়ার লক্ষণ।
এটি এতটাই মারাত্মক হতে পারে যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে। বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী নারী এবং এইচআইভি আক্রান্তরা এতে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
৪. টাইফয়েড জ্বর
দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে টাইফয়েড ছড়ায়। উচ্চমাত্রার জ্বর, প্রচণ্ড ক্লান্তি, মাথাব্যথা, বমি, পেট ব্যথা, আমাশয়, ডায়রিয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি এর মূল লক্ষণ।
রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এটি দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা না করালে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।


