সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কখন এবং কেন ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট নিতে হয়?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand

ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রক্তের বা প্লাটিলেটের জন্য আকুতি বেড়ে যায়। তবে ডেঙ্গু ও রক্তের অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। প্লাটিলেট কমা মাত্রই রক্ত দিতে হবে- এমন ধারণা চিকিৎসকদের মতে সঠিক নয়।

প্লাটিলেটের মাত্রা এবং বিপদের হিসাব

মানবদেহের রক্তে প্লাটিলেটের স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি মাইক্রোলিটারে দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ। এর চেয়ে মাত্রা কমে গেলে রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা হয় এবং রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হয়, যাকে বলা হয় থ্রোম্বোসাইটোপেনিয়া।

১ লাখের নিচে: পরিস্থিতি জটিল হিসেবে গণ্য করা হয়।

২০ হাজারের নিচে: কোনো ধরনের আঘাত ছাড়াই রক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকে।

১০ হাজারের নিচে: এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, যখন শরীর থেকে অনবরত রক্তপাতের সর্বোচ্চ ঝুঁকি থাকে।

প্লাটিলেট কমলেই কি রক্ত নিতে হবে?

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে শুধু প্লাটিলেট কমে যাওয়াই একমাত্র বা প্রধান সংকট নয়। রোগীর রক্তরস কমে যাওয়া (প্লাজমা লিকিং) এবং রক্তচাপ কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে বেশি বিপজ্জনক করে তোলে।

বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে প্লাটিলেটের স্বল্পতা মাত্র দুই-তিন দিন স্থায়ী হয় এবং তা নিজে থেকেই বাড়তে শুরু করে।

রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা ১০ হাজারে নেমে গেলেও অনেক রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, যদি তাদের রক্তচাপ ও অন্যান্য সূচক স্বাভাবিক থাকে।

এক ইউনিট প্লাটিলেটের জন্য চারজন দাতার প্রয়োজন হয় এবং এটি একটি ব্যয়বহুল ও জটিল প্রক্রিয়া হওয়ায় ঢালাওভাবে প্লাটিলেট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না।

কখন রক্ত বা প্লাজমা নেওয়ার প্রয়োজন হয়?

ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের মতো জটিল পরিস্থিতিতে রক্তনালীর দেয়াল ভেদ করে রক্তের জলীয় অংশ বাইরে চলে আসে (প্লাজমা লিকিং)। এর ফলে রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যায়।

চিকিৎসকরা মূলত নির্দিষ্ট কিছু জটিলতা ও লক্ষণ দেখা দিলেই রক্ত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন:

  • রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যাওয়া ও হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া।
  • প্লাটিলেট ২০ হাজারের নিচে নামার পাশাপাশি সক্রিয় রক্তক্ষরণ (Active bleeding) হওয়া।
  • ত্বকে বেগুনি রঙের ক্ষত, লাল বা কালো র‍্যাশ দেখা দেওয়া।
  • নাক, মাড়ি, প্রস্রাব বা মলের সঙ্গে রক্তপাত এবং মাসিকে অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া।
  • ক্ষতস্থান থেকে অনেকক্ষণ ধরে রক্তপাত হওয়া এবং পেটে-বুকে পানি জমা।
  • প্লাটিলেট ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক খাবার

ডেঙ্গু রোগীর জন্য সুষম খাবার ও পর্যাপ্ত তরলের পাশাপাশি কিছু বিশেষ খাবার প্লাটিলেট পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে:

মিষ্টি কুমড়া ও এর বীজ: এতে থাকা ভিটামিন এ নতুন প্লাটিলেট তৈরিতে সহায়তা করে।

লেবু ও আমলকী: প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া রোধ করে।

অ্যালোভেরা জুস: রক্তের সংক্রমণ দূর করতে এবং প্লাটিলেট বাড়াতে কার্যকরী।

ডালিমের জুস: আয়রনে ভরপুর ডালিম প্লাটিলেট বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের দুর্বলতা দূর করে।

পেঁপে পাতার ও পাকা পেঁপের রস: গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি, তাজা ফলের রস, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, প্রোটিন, ভিটামিন ই ও কে সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। তবে ডেঙ্গু রোগীর সুস্থতার স্বার্থে যেকোনো ধরনের প্যাকেটজাত ও অতিরিক্ত মসলাদার খাবার সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা আবশ্যক।

জ্বর আসার পাঁচদিনের মধ্যে এনএসওয়ান (NS1) অ্যান্টিজেন পরীক্ষা এবং সিবিসি পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank