

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ডেঙ্গুর মৌসুম এলেই রক্তের প্লাটিলেট নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যায়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করে প্লাটিলেটের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু প্লাটিলেট আসলে কী এবং এটি কমে যাওয়ার কারণই বা কী?
প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা রক্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। রক্তের অন্যান্য কণিকার মতো প্লাটিলেটও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কোথাও কেটে গেলে বা রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে রক্তপাত বন্ধ করতে সাহায্য করে।
ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমতে পারে। তবে শুধু ডেঙ্গুই নয়, বিভিন্ন রোগ, শারীরিক অবস্থা ও কিছু ওষুধের কারণেও প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যেতে পারে।
রক্তে প্লাটিলেটের স্বাভাবিক মাত্রা সাধারণত প্রতি মাইক্রোলিটার রক্তে প্রায় দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখের মধ্যে থাকে। এর চেয়ে কমে গেলে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া বলা হয়।
প্লাটিলেট কমে যাওয়ার পেছনে প্রধানত দুটি বিষয় কাজ করতে পারে—শরীরে প্লাটিলেট বেশি মাত্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া অথবা অস্থিমজ্জা থেকে পর্যাপ্ত প্লাটিলেট তৈরি না হওয়া।
বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ প্লাটিলেটের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। এর মধ্যে ডেঙ্গু, কোভিড-১৯, হেপাটাইটিস বি-এর মতো কিছু ভাইরাসজনিত সংক্রমণ রয়েছে। কিছু ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ক্ষেত্রেও প্লাটিলেট কমতে পারে।
অর্থাৎ রক্তে প্লাটিলেট কম পাওয়া গেলে শুধু ডেঙ্গুকে কারণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক অন্যান্য কারণও খুঁজে দেখেন।
প্লাটিলেট কিছুটা কমে গেলেই যে গুরুতর রক্তক্ষরণ হবে, এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য কমে যাওয়া কোনো বড় উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে।
তবে প্লাটিলেটের মাত্রা খুব কমে গেলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে অত্যন্ত কম মাত্রায় নেমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে স্বতঃস্ফূর্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই শুধু একটি সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা এবং রক্ত পরীক্ষার অন্যান্য ফলাফলও বিবেচনা করা জরুরি।
প্লাটিলেট কমে গেলে শরীরে রক্তপাতের কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—
তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখে প্লাটিলেট কমেছে কি না নিশ্চিত হওয়া যায় না। রক্ত পরীক্ষা করেই প্লাটিলেটের মাত্রা জানা যায়।
ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে যাওয়া বেশ পরিচিত বিষয়। তাই রিপোর্টে প্লাটিলেট কম দেখলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার সময়সহ পুরো অসুস্থতার পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নজরদারি করা গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্লাটিলেটের মাত্রাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে ফিরে আসে। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার রক্ত পরীক্ষা করে প্লাটিলেটের পরিবর্তন, রোগীর উপসর্গ এবং অন্যান্য শারীরিক বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন।
প্লাটিলেট বাড়ানোর জন্য নিজে থেকে কোনো ওষুধ, ভেষজ উপাদান বা অপ্রমাণিত চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত নয়। ডেঙ্গুতে রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো কোনো সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
প্লাটিলেটের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ডেঙ্গুর চিকিৎসা শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। রোগীর সামগ্রিক অবস্থা ও চিকিৎসকের মূল্যায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



