

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্যস্ত নাগরিক জীবন, প্রক্রিয়াজাত খাবারের আধিক্য আর অনিয়মিত জীবনযাত্রা- এই তিনটি মিলে আমাদের শরীরকে প্রতিনিয়ত ঠেলে দিচ্ছে একাধিক জটিল রোগের দিকে।
বিশেষ করে ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে ইদানীং হৃদ্রোগ, কিডনির সমস্যা এবং ক্যানসারের মতো মারণরোগের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
তবে মুদ্রার যেমন এপিঠ-ওপিঠ থাকে, তেমনই জীবনযাত্রায় খানিক পরিবর্তন এবং থালায় সঠিক খাবার বেছে নেওয়ার মাধ্যমে কিন্তু এসব ব্যাধিকে দূরে রাখাও সম্ভব।
সত্যিই কি সঠিক খাদ্যাভ্যাস ক্যানসারের মতো কঠিন রোগ প্রতিরোধ করতে পারে? এই বিষয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
আধুনিক জীবনযাপন এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস কেবল হৃদ্যন্ত্র, লিভার বা কিডনির ক্ষতি করে না; বরং এটি ক্যানসারের মতো মারণরোগের ঝুঁকিও অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। তবে ইতিবাচক বিষয় হলো- সঠিক খাবার নির্বাচনের মাধ্যমে এই জটিল রোগের ঝুঁকি কমানোও সম্ভব।
চিকিৎসকের মতামত
ভারতীয় ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট খাবার ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে- এমন কোনো প্রত্যক্ষ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে স্বাস্থ্যকর খাবার পরোক্ষভাবে দারুণ কাজ করে।
ভালো খাদ্যাভ্যাস শরীরের প্রদাহ কমায়, বিপাকক্রিয়া (Metabolism) উন্নত করে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। এর ফলে স্থূলতা-সম্পর্কিত ক্যানসার (যেমন: স্তন, এন্ডোমেট্রিয়াল ও গলব্লাডার ক্যানসার) এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
যেসব খাবার সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে:
১. রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল
প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকায় ব্রকোলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, টমেটো, সবুজ শাক এবং বেরি জাতীয় মরশুমি ফল রাখা উচিত। এগুলোতে থাকা ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও ফাইবার শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
২. ফাইবারে সমৃদ্ধ খাবার
ওটস, গম বা লাল চালের মতো গোটা শস্য (Whole Grains), ফল ও সবজি অন্ত্রের (Gut) স্বাস্থ্য ভালো রাখে। উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি শরীর থেকে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন হরমোন বের করে দিতে সাহায্য করে।
৩. উপকারী ফ্যাট (Healthy Fats):
বাদাম, আখরোট, তিসির বীজ এবং সামুদ্রিক মাছ থেকে প্রাপ্ত 'ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড' শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং কোষ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪. চর্বিহীন প্রোটিন
ডাল, ডিম, মাছ, মুরগির মাংস ও বিন্স জাতীয় চর্বিহীন প্রোটিন শরীরকে ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট মুক্ত রাখে। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে একাধিক ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
কেবল নির্দিষ্ট কোনো খাবার নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক চর্চার যৌথ প্রয়াসই শরীরকে সুস্থ রাখে এবং পরোক্ষভাবে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, ক্যানসার প্রতিরোধের কোনো একক "জাদুকরী খাবার" বা শর্টকাট উপায় নেই। ক্যানসার মুক্ত ও দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ জীবনের আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রায়।
প্রতিদিনের পাতে পুষ্টিকর ফাইবার, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন রাখার পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
খাবারের থালায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শারীরিক চর্চাকে অভ্যাসে পরিণত করলেই শরীরকে ক্যানসারসহ যেকোনো জটিল রোগের বিরুদ্ধে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তোলা সম্ভব।
