

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর কলাবাগানের কাঠালবাগান এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে হৃদয় ওরফে শিপন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আল আমিন মসজিদ রোডের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফারজানা আক্তার (২১) ও তার মা ফিরোজা বেগম (৩৪)।
পুলিশ ও নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। নিহত ফারজানার বাবা মো. ফারুক হোসেন বলেন, গত শুক্রবারের আগের শুক্রবার তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম ও মেয়ে ফারজানা শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে গ্রামের বাড়িতে যান। গত শুক্রবার তাদের এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হৃদয় ওরফে শিপনও সেখানে যান। তবে বিয়ের দিন সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে শিপন না খেয়েই ঢাকায় ফিরে আসেন।
ফারুক হোসেন জানান, শনিবার রাতে তিনি, তার স্ত্রী ও মেয়ে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে কাঠালবাগানের বাসায় ওঠেন। রোববার (২ আগস্ট) সকালে তিনি বাসার বাইরে ছিলেন। এ সময় আগের বিরোধের জের ধরে আবারও শিপনের সঙ্গে ফারজানার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ফিরোজা বেগম মেয়ের পক্ষ নিয়ে ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে শিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রথমে স্ত্রী ফারজানার ওপর হামলা চালান। পরে ফিরোজা বেগমকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। ঘটনাস্থলেই ফারজানা মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফারুক হোসেন আরও বলেন, হামলার পর শিপন তাদের এক বছর বয়সী ছেলে রায়হানকে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করে। শিপনের বাড়ি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে শাশুড়ি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত হৃদয় ওরফে শিপন ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে স্ত্রী এবং পরে শাশুড়ির ওপর হামলা চালান। ঘটনার পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ফিরোজা বেগমের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। অপর মরদেহেরও ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।