রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুল কোঁকড়ানোর পেছনে কি সত্যিই প্রোটিনের অভাব দায়ী?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
এনপিবি কোলাজ
expand
এনপিবি কোলাজ

অনেকের মনেই একটা সাধারণ প্রশ্ন বা ধারণা জাগে- তবে কি কোনো নির্দিষ্ট প্রোটিনের ঘাটতির কারণেই মাথার চুল কোঁকড়ানো হয়?

এই প্রশ্নের সোজা উত্তর হলো: না, চুল কোঁকড়ানো হওয়ার পেছনে প্রোটিনের ঘাটতি দায়ী নয়, বরং চুল কীভাবে গঠিত হচ্ছে এবং জিনের নির্দেশ কেমন- তা-ই মূল কারণ। নিচে পুরো বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

কৌতুহল ও প্রতিদিনের যুদ্ধ

প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কোঁকড়ানো চুল সোজা করার লড়াই বা পার্লারে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ করে সোজা চুলকে কোঁকড়ানো করা- আমাদের নিত্যদিনের ছবি।

তবে সাময়িক সাজগোজ যাই করা হোক না কেন, চুল প্রাকৃতিকভাবে সোজা নাকি কোঁকড়ানো হবে তা কিন্তু শরীরে কোনো প্রোটিনের অভাবের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি স্থির হয়ে যায় জন্মের সময়েই।

আসল রহস্য চুলের গোড়ায়

প্রোটিন কম থাকার কারণে চুল কোঁকড়ায় না, বরং এটি নির্ভর করে ত্বকের ভেতরে থাকা ‘হেয়ার ফলিকল’ বা চুলের গোড়ার গঠন আর ছাঁচের ওপর।

অস্ট্রেলিয়ার গবেষকদের মতে, ত্বকের ভেতরে ফলিকলটি যদি সোজা বা লম্বালম্বি থাকে, তবে সেখান থেকে বের হওয়া চুল সোজা হয়।

আর ফলিকলটি যদি জন্মগতভাবেই বাঁকানো হয়, তবে ভেতর থেকে বের হওয়ার সময় চুলটি কোঁকড়ানো বা ঢেউখেলানো আকার ধারণ করে।

কেরাটিনের সাজসজ্জা ও গঠন

চুলের প্রধান উপাদান হলো 'কেরাটিন' নামক প্রোটিন। চুল কোঁকড়ানো হওয়ার ক্ষেত্রে কেরাটিনের মোট পরিমাণের কোনো ঘাটতি থাকে না, বরং এটি কীভাবে বণ্টন হচ্ছে সেটাই আসল খেলা।

হেয়ার ফলিকলের কোষগুলোর বিভাজন যদি দু'পাশে সমানভাবে না হয়, তবে চুলের একপাশে কেরাটিন ও অন্যান্য উপাদানের বিন্যাস অন্যপাশের চেয়ে অসমান হয়ে পড়ে।

কেরাটিনের এই গঠনগত ভারসাম্যের ভিন্নতার কারণেই চুল আঁকাবাঁকা হয়ে বের হয়। এছাড়া, চুলে থাকা ‘ডাইসালফাইড বন্ড’ নামক প্রোটিনের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক বন্ধনগুলো সোজা চুলে সমান্তরাল থাকলেও, কোঁকড়ানো চুলে আঁকাবাঁকা থাকে।

মূল চাবিকাঠি প্রোটিন নয়, জিন!

শরীরে কোনো পুষ্টি বা প্রোটিন কম পড়ার বদলে পুরো বিষয়টির পেছনে কাজ করে জিনগত বৈশিষ্ট্য। বংশগতভাবে বাবা-মায়ের কাছ থেকে আসা ‘টিসিএইচএইচ’ (TCHH) জিনটি চুলে কেরাটিন প্রোটিনের এই অসমান বণ্টন তৈরি করে।

পাশাপাশি এশীয়দের চুলে ‘ইডিএআর’ (EDAR) এবং কেরাটিন তৈরির সংকেতদাতা ‘কেআরটি৭১’ (KRT71) জিনের সক্রিয়তার কারণে চুল ঘন ও কোঁকড়ানো হয়।

তাই বলা যায়, প্রোটিন বা পুষ্টির ঘাটতির কারণে চুল কোঁকড়া হয় না। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রোটিনের নিজস্ব গঠনগত সাজসজ্জা এবং পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া জিনের কারসাজি!

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন