

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিআইসিইউ বা শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে এ বছরের প্রথম ৪ মাসে একটি গবেষণা চালানো হয়। এতে দেখা যাচ্ছে, শিশুদের শরীরে প্রথম সারির প্রায় সব অ্যান্টিবায়োটিকই সম্পূর্ণ অকার্যকর। কিন্তু কীভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হলো?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে মানবজাতির সবচেয়ে বড় আবিষ্কারগুলোর একটি ছিল অ্যান্টিবায়োটিক। কিন্তু ভাবুন তো, যে ওষুধ একসময় কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে, তা যদি হঠাৎ করেই শরীরে কাজ করা বন্ধ করে দেয়? আরও ভয়ের ব্যাপার হলো, এই মরণফাঁদের মুখোমুখি এখন আমাদের দেশের ছোট শিশুরা!
এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। তিনি দেখতে পান, শিশুদের শরীরে ৯৬ ভাগ অ্যান্টিবায়োটিকই আর কোনো কাজ করছে না। ওষুধগুলো দেহে এখন কেবল পানি বা চকের গুঁড়োর মতো কাজ করছে।
এই মুহূর্তে কেবল টাইজেসাইক্লিন ও কলিস্টিন নামের দুটি ওষুধ কার্যকর রয়েছে। তবে কলিস্টিনও কার্যকারিতা হারাতে পারে দ্রুতই। ফলে যে রোগ সারতে ৬ দিন লাগত, তা দ্বিগুণ সময়েও সেরে উঠছে না।
ড. আবু হেনা জানান, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম সারির ৬টি ওষুধের গড় রেজিস্ট্যান্সের হার যেখানে ছিল ৮৩.৮ শতাংশ, এপ্রিল মাসে সেটি এক লাফে পুরো ১০০ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে! এই পরিসংখ্যানটি হাসপাতালজুড়ে একটি বড় ধরনের বিপদের সংকেত। প্রতিবেদন: বিজ্ঞানপ্রিয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু আগেও কোনো না কোনো কারণে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করেছিল, তাদের শরীরে একাধিক ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি সাধারণ শিশুদের চেয়ে প্রায় ৭ গুণ বেশি! এর পরিণতি কতটা মারাত্মক তা চিকিৎসার সময় দেখলেই বোঝা যায়। সাধারণ জীবাণুর সংক্রমণে একটি শিশু যেখানে গড় ৬ দিনে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারে, সেখানে এই সুপারবাগে আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হতে লাগছে দ্বিগুণ সময়। যেসব শিশু ৪৮ ঘণ্টার বেশি ভেন্টিলেশনে থাকে কিংবা দীর্ঘ সময় পিআইসিইউতে অবস্থান করে, তারাও এই মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।
এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে? গবেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হচ্ছে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যখন-তখন অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার। একটু জ্বর বা ঠান্ডা-কাশি হলেই আমরা ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে শিশুদের খাইয়ে দিই। আবার অনেক সময় কোর্সও সম্পূর্ণ করি না। আমাদের এই অসচেতনতাই জীবাণুগুলোকে আরও শক্তিশালী ও সুপারবাগে পরিণত করছে।
গবেষক দলের প্রধান ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল স্পষ্ট করেই বলেছেন— সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে শিশুদের এমন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পরিচর্যার মধ্যে রাখা, যাতে তারা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো জটিল অসুস্থতাতেই না পড়ে। মনে রাখবেন, আজ আমাদের একটি ছোট ভুল আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সুতরাং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনোই আপনার শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন না।
