

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাতে ঘুমোনোর সময় আমাদের ত্বক নিজে থেকেই ভেতরের ক্ষত সারিয়ে তোলার কাজ করে। এই সময় সঠিক উপাদান ব্যবহার করলে ব্রণের ফুসকুড়ি ও প্রদাহ অনেকটাই কমে যায়। বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক ও মেডিকেল উপায়ে ব্রণ রাতারাতি শান্ত করা সম্ভব, যা সকালে ঘুম থেকে উঠলেই সুস্পষ্টভাবে চোখে পড়ে।
দিনের বেলায় ত্বকে ধুলাবালি, মেকআপ এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে, রাতে ত্বক থাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে।
• কোষ পুনর্গঠন: রাতে ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং নতুন কোষ তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
• উপাদানের দ্রুত শোষণ: রাতে স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট লাগালে ত্বক তা কোনো রকম বাহ্যিক বাধা ছাড়াই ভালোভাবে শুষে নিতে পারে।
• ব্রণ কমানো: ব্রণের ভেতরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য রাতই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
ব্রণের ধরণ ও ত্বকের উপযোগী উপাদান রাতে ব্যবহার করা উচিত:
এটি ব্রণের প্রধান জীবাণু P. acnes নামক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে দুর্দান্ত কাজ করে। রাতে শুধু ব্রণের ওপর এটি পাতলা করে লাগিয়ে দিন। এটি লালচে ভাব ও ফোলা কমায়।
এটি একটি BHA (Beta Hydroxy Acid) যা ত্বকের লোমকূপের গভীরে ঢুকে জমতি তেল ও মৃত কোষ বের করে দেয়। ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস ও ছোট ছোট ব্রণের জন্য এটি ভীষণ কার্যকরী।
অ্যাডাপালিন হলো থার্ড-জেনারেশন রেটিনয়েড। এটি ত্বকের কোষ পরিবর্তনের হার বাড়ায় এবং বন্ধ লোমকূপ খুলে দেয়। রাতে পুরো মুখে সামান্য পরিমাণে ব্যবহার করলে নতুন ব্রণ ওঠা বন্ধ হয়।
যারা প্রাকৃতিক সমাধান পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য টি ট্রি অয়েল একটি ভালো অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। তবে এটি সরাসরি ব্যবহার না করে অন্য কোনো লাইট ময়েশ্চারাইজার বা ক্যারিয়ার অয়েলের সাথে মিশিয়ে ব্রণের ওপর লাগাতে হয়।
পুঁজ জমে থাকা বা পাকা ব্রণের ওপর পিম্পল প্যাচ লাগিয়ে ঘুমালে এটি সারারাত ব্রণের ভেতরের তরল শুষে নেয়। এতে ব্রণে হাত দেওয়ার প্রবণতাও কমে এবং সংক্রমণ ছড়ায় না।
অনেকে দ্রুত ফল পেতে ঘরে থাকা বিভিন্ন উপাদান ব্রণে লাগিয়ে ফেলেন, যা ত্বকের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে:
টুথপেস্টে বেকিং সোডা, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড এবং মেনথল থাকে। এগুলো ত্বককে মারাত্মকভাবে পুড়িয়ে দিতে পারে এবং অ্যালার্জি তৈরি করতে পারে।
লেবুর রসে প্রচুর সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে, যা ত্বকের প্রাকৃতিক pH ভারসাম্য নষ্ট করে ত্বক লাল করে ফেলে ও র্যাশ সৃষ্টি করে।
বেকিং সোডা অত্যন্ত ক্ষারীয়। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় (Moisture Barrier) ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ব্রণ কমার বদলে আরও বেড়ে যায়।
রাতের যত্নের পর সকালে একটি সাধারণ অথচ কার্যকর রুটিন মেনে চলা উচিত:
• হালকা ফেসওয়াশ: রাতভর জমে থাকা তেল ও প্রোডাক্টের অবশিষ্টাংশ পরিষ্কার করতে একটি জেন্টল/মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
• হাইড্রেটিং ময়েশ্চারাইজার: ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে তেলমুক্ত (Oil-free) ও নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
• সানস্ক্রিন ব্যবহার: ব্রণের ওষুধ বা নাইট ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বক কিছুটা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই সকালে বাইরে না গেলেও ঘরের ভেতরে SPF ৩০ বা তার বেশি মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
সব ব্রণ ঘরে বসে সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের (Dermatologist) পরামর্শ নেওয়া উচিত:
• আপনার ব্রণের সমস্যা যদি সিস্টিক হয় (ত্বকের গভীরে বড় ও বেদনাদায়ক নোডিউল বা গুটলি)।
• ঘরোয়া ও ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) ওষুধ ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ ব্যবহার করার পরও কোনো পরিবর্তন না এলে।
• ব্রণের কারণে মুখে গভীর ক্ষত বা দাগ থেকে যেতে শুরু করলে।
• মুখের পাশাপাশি ঘাড়, পিঠ ও বুকে ব্যাপকভাবে ব্রণ ছড়িয়ে পড়লে।