সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাটকা ভাতের চেয়ে পান্তায় রয়েছে দ্বিগুণ পুষ্টি!

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
expand
টাটকা ভাতের চেয়ে পান্তায় রয়েছে দ্বিগুণ পুষ্টি!

আমাদের অনেকেরই রাতে ভাত থেকে গেলে পরদিন সকালে তা খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত সাধারণ ও চিরচেনা। কেউ তা পানি ঢেলে পান্তা ভাত করে খান, তো কেউ আবার ফ্রিজে রেখে গরম করে খেতে পছন্দ করেন।

তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে- বাসি ভাত খাওয়া আসলে শরীরের জন্য কতটা উপকারী বা ক্ষতিকর?

পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, টাটকা ভাতের তুলনায় পান্তা ভাতে রয়েছে দ্বিগুণ পুষ্টিগুণ!

পান্তা ভাতের পুষ্টিগুণ

রাতে বেঁচে যাওয়া ভাতে পানি দিয়ে রাখলে তা দিয়ে 'পান্তা ভাত' তৈরি হয়। এই ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ার কারণে বাসি ভাতে কার্বোহাইড্রেটের রূপান্তর ঘটে, যা শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি (Energy) জোগাতে দারুণ সাহায্য করে।

এছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, টাটকা ভাতের তুলনায় পানি দেওয়া বাসি ভাতে আয়রণ, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়, যা শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে।

হজমশক্তি ও পেটের সমস্যায় পান্তা ভাত

পানি দেওয়া বাসি ভাতে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিকস (Probiotics) তৈরি হয়। এই উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো আমাদের হজম ক্ষমতা বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পেট ঠান্ডা রাখে।

বিশেষ করে যাদের পেটে আলসার বা হাইপার-অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য সকালে পান্তা ভাত উপশমকারী হিসেবে কাজ করে এবং পেটের ভেতরের জ্বালাপোড়া কমায়।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা

পান্তা ভাতে পটাসিয়ামের পরিমাণ বেশি এবং সোডিয়ামের পরিমাণ কম থাকে। সোডিয়াম কম থাকার কারণে যারা উচ্চ রক্তচাপের (High Blood Pressure) সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য সকালে পরিমিত পরিমাণে পানি দেওয়া বাসি ভাত খাওয়া বেশ উপকারী হতে পারে।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও সতর্কতা!

তবে, বাসি ভাত খাওয়ার ধরন এবং সংরক্ষণের পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে এটি যেমন শরীরের জন্য অমৃত হয়ে উঠতে পারে, তেমনই অসাবধানতার কারণে ডেকে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

ভাত যদি পানি না দিয়ে এমনিই ঘরের সাধারণ তাপমাত্রায় দীর্ঘক্ষণ (বিশেষ করে ৪ ঘণ্টার বেশি) রেখে দেওয়া হয়, তবে তাতে 'ব্যাসিলাস সেরিয়াস' (Bacillus cereus) নামক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মায়।

এই ধরনের বাসি ভাত খেলে ডায়রিয়া, বমি বা ফুড পয়জনিং হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে। তাই ভাত সংরক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি।

অনেকেরই অভ্যাস থাকে ভাতে পানি না দিয়ে, ফ্রিজে রাখা বাসি ভাত বারবার বের করে উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করা। এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। উচ্চ তাপমাত্রায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মরে তো না-ই, উল্টো দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।

তাই ফ্রিজের বাসি ভাত খেতে চাইলে তা বের করে মাত্র একবারই হালকা গরম করে নেওয়া উচিত।

আবার অনেকে এই ভাত তেল দিয়ে ভেজে (ফ্রাইড রাইস করে) খান, যা শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি বাড়ায় এবং দ্রুত মেদ ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন