

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কান্নাকে সাধারণত দুঃখ বা মানসিক দুর্বলতার প্রতীক মনে করা হলেও এটি আসলে শরীর ও মনকে শান্ত করার একটি চমৎকার প্রাকৃতিক উপায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ধুলাবালি বা পেঁয়াজ কাটার কারণে চোখ দিয়ে যে পানি পড়ে, তার চেয়ে আবেগজনিত কান্নার পানি সম্পূর্ণ আলাদা।
মানুষ যখন তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যায়, তখন শরীরে কিছু স্ট্রেস হরমোন ও রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়। আবেগজনিত কান্নার মাধ্যমে এই ক্ষতিকর উপাদানগুলো শরীর থেকে বের হয়ে যায়, যা মানসিক চাপ কমাতে সরাসরি সাহায্য করে।
এছাড়া কান্নার সময় শরীর থেকে অক্সিটোসিন এবং এন্ডোরফিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে আমাদের শারীরিক-মানসিক ব্যথা কমায় এবং মেজাজ ফুরফুরে করতে ভূমিকা রাখে।
শারীরিক দিক থেকেও কান্নার একটি পরিমাপযোগ্য ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কান্নার ফলে শরীর তার উত্তেজিত বা ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট’ অবস্থা থেকে দ্রুত বের হয়ে আসে এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়।
এর ফলে হৃদস্পন্দন কমে আসে, শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর ও স্বাভাবিক হয় এবং পুরো শরীর একটি শান্ত বা বিশ্রামের অবস্থায় চলে যায়। হার্ভার্ড হেলথের তথ্য অনুযায়ী, কান্না মূলত একটি ‘সেফটি ভালভ’ যা কঠিন অনুভূতিগুলো থেকে মুক্তি দেয়।
অন্যদিকে কান্না চেপে রাখলে ভেতরে মানসিক উত্তেজনা জমে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার মতো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ব্যক্তিগত স্বস্তির পাশাপাশি কান্না মানুষের সামাজিক বন্ধনকেও আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করে। যখন কেউ প্রিয়জনদের সামনে কান্না লুকাতে পারে না, তখন পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে সহানুভূতি, ঘনিষ্ঠতা এবং মানসিক সমর্থন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে মনে রাখা দরকার যে, কান্না সব সময় সাধারণ মানসিক চাপ মুক্তির উপায় নাও হতে পারে। কান্না যদি ঘন ঘন আসে, কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা না যায় এবং দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তবে তা গভীর বিষণ্ণতার লক্ষণ হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে কোনো মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ। সব মিলিয়ে, কান্না কোনো দুর্বলতা নয়, বরং শরীর ও মনকে সুস্থ রাখার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
