

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আমরা প্রতিনিয়ত যে মানসিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাই, তার একটি বড় অংশ জুড়েই থাকে কাল্পনিক ভবিষ্যতের ভয়। পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের মনের প্রায় ৯১.৪ শতাংশ নেতিবাচক আশঙ্কাই বাস্তবে কখনো রূপ নেয় না।
এমনকি বাকি যে সামান্য অংশ সত্যি হয়, তা মোকাবিলা করার মতো মানসিক সক্ষমতাও মানুষের থাকে। বিজ্ঞান যাকে ‘নেগেটিভিটি বায়াস’ বা নেতিবাচকতার প্রতি মস্তিষ্কের সহজাত ঝোঁক বলছে, তা আসলে আমাদের আদিম পূর্বপুরুষদের টিকে থাকার এক প্রাচীন হাতিয়ার মাত্র।
আদিম যুগে বন্য পশুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে মস্তিষ্ককে সবসময় সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হতো। কিন্তু আধুনিক সভ্য ও নিরাপদ জীবনযাত্রায় এসে মস্তিষ্কের এই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাটিই আমাদের সবচেয়ে বড় মানসিক শত্রুতে পরিণত হয়েছে, যা তৈরি করছে অহেতুক মানসিক চাপ।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত মনস্তাত্ত্বিক বিভ্রান্তি বা ‘কগনিটিভ ডিসটর্শন’-এর ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। আমাদের অবচেতন মন যেকোনো অজানা বা অনিশ্চিত পরিস্থিতিকে বড় ধরনের বিপদ হিসেবে ধরে নেয় এবং ‘ক্যাটাস্ট্রফাইজড’ বা তিলকে তাল করে দেখার এক অবাস্তব প্রবণতা তৈরি করে।
ফলে একটি সাধারণ সমস্যাও আমাদের ভাবনায় এক বিশাল বিপর্যয় হিসেবে ধরা দেয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এই অমূলক ভয়ের হার ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
অর্থাৎ, আমাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া সিংহভাগ দুশ্চিন্তাই কেবল মস্তিষ্কের নিউরনের তৈরি করা এক বিভ্রম, যার সাথে বাস্তব পৃথিবীর কোনো সংযোগ নেই।
এই মনস্তাত্ত্বিক সত্যটি জানার পর আমাদের চিন্তাভাবনার ধরণে একটি আমূল পরিবর্তন আনা জরুরি। মন কোনো আশঙ্কার কথা শোনানো মানেই যে তা ঘটে যাবে, এই অন্ধবিশ্বাস থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
যখনই কোনো নেতিবাচক চিন্তা মাথায় ভর করবে, তখনই নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত- এর বাস্তব ভিত্তি কতটুকু? বর্তমান মুহূর্তে বেঁচে থাকার অনুশীলন বা ‘মাইন্ডফুলনেস’ আমাদের এই কাল্পনিক চক্র থেকে মুক্তি দিতে পারে।
আমাদের বুঝতে হবে যে, মানুষের মন কেবলই চিন্তার জন্ম দিতে পারে, কিন্তু সেই চিন্তা কখনোই পরম বাস্তবতা নয়। অবাস্তব ভয়কে প্রশ্রয় না দিয়ে সচেতনভাবে নিজের ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, জীবন থেকে এক বিশাল অংশের অপ্রয়োজনীয় মানসিক কষ্টের অবসান ঘটানো সম্ভব।
