

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পচা পনির, তার ভেতর কিলবিল করছে জীবন্ত পোকার লার্ভা! সাধারণ মানুষের কাছে এটি অদ্ভুত বা ভীতিকর মনে হলেও, ভোজনরসিকদের কাছে এটি অত্যন্ত লোভনীয় এক খাবার।
ইতালির সার্ডিনিয়া দ্বীপের ঐতিহ্যবাহী এই চিজ়ের নাম 'ক্যাজু মারজু' (Casu Marzu), যার আক্ষরিক অর্থই হলো 'পচা চিজ়'। ২০০৯ সালে গিনেস বুক একে 'বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক চিজ়' বললেও এর জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি।
'ক্যাজ়ু মার্ৎসু' মূলত ভেড়ার দুধ থেকে তৈরি এক বিশেষ পনির। চিজ়টি বানিয়ে খোলা বাতাসে রেখে দেওয়া হয়। তখন ‘পিয়োফেলা কেসি’ নামের এক বিশেষ মাছি এসে এতে ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে যখন লার্ভা (পোকা) বের হয়, তারা চিজ়ের ফ্যাট ও প্রোটিন ভাঙতে শুরু করে।
পোকার শরীর থেকে নির্গত অ্যাসিডের কারণে চিজ়টি একদম নরম, তুলতুলে এবং ক্রিমের মতো রসালো হয়ে ওঠে। ভোজনরসিকদের মতে, এর স্বাদ অত্যন্ত ঝাঁঝালো ও সুস্বাদু, যা মুখে দিলেই গলে যায় এবং এর স্বাদ দীর্ঘক্ষণ জিভে লেগে থাকে।
সার্ডিনিয়ার মানুষের কাছে ক্যাজু মারজু কেবল কোনো খাবার নয়, এটি তাদের শত বছরের পুরনো সংস্কৃতি ও অহংকার। স্থানীয়দের বিশ্বাস, যত বেশি পোকা জন্মাবে, চিজ়ের স্বাদ তত বাড়বে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস চিজ়ের ভেতরের পোকারা ফ্যাট আগে থেকেই ভেঙে দেয় বলে এটি সহজে হজম হয় এবং ওজন বা ক্যালোরি বাড়ায় না। এতে প্রচুর প্রোবায়োটিক থাকে, যা পেটের জন্য ভালো।তবে চিকিৎসকদের মতে, জীবন্ত পোকা পেটে গেলে অন্ত্রে সংক্রমণ, আলসার, ডায়রিয়া বা বিষক্রিয়া হতে পারে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেক দেশে এই চিজ় বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। তবে সার্ডিনিয়ার বিভিন্ন খামারে এখনো গোপনে এটি তৈরি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খেলে কোনো শারীরিক ক্ষতি হয় না। আর এই নিষিদ্ধ রোমাঞ্চ এবং অনন্য স্বাদের টানেই বিশ্বজুড়ে ভোজনরসিকেরা চড়া দাম দিয়ে এই বিপজ্জনক চিজ় চেখে দেখতে ভালোবাসেন।
