রবিবার
১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মায়ের সঙ্গে ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন তৌসিফ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

পর্দায় তিনি কখনো ভালোবাসার গল্প বলেন, আবার কখনো দর্শকদের আবেগে ভাসান। কিন্তু মা দিবসের দিনে এবার নিজের জীবনের এমন এক বাস্তব গল্প শেয়ার করলেন তিনি, যা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন ভক্তরাও। মা দিবসে মাকে নিয়ে দেওয়া এক হৃদয়স্পর্শী স্ট্যাটাসে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব তুলে ধরেছেন শৈশবের এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। যেখানে একজন মায়ের ভালোবাসা হার মানিয়েছে রক্ত, ব্যথা আর মৃত্যুভয়কেও।

রবিবার (১০ মে) বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে মায়ের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করেন এই অভিনেতা। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন ১৯৯৮-৯৯ সালের একটি ঘটনার কথা, যখন তিনি অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ক্লাস ফাইভে পড়তেন। তৌসিফ জানান, প্রতিদিনের মতো সেদিনও স্কুল শেষে তিনি অপেক্ষা করছিলেন বাবার বা খালুর জন্য। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও কেউ তাকে নিতে আসেননি। একসময় পুরো স্কুল ফাঁকা হয়ে যায়। দারোয়ানের রুমে একা বসে থাকা ছোট্ট তৌসিফের মনে তখন ভয়, অভিমান আর রাগ জমতে থাকে। কারণ সেই সময়ে সন্ধ্যার পর ধানমন্ডি এলাকায় ছিনতাইকারীদের উপদ্রব ছিল ভয়াবহ। ঠিক তখনই একটি রিকশার বেল বেজে ওঠে। গেটের দারোয়ান এসে জানান, তার মা তাকে নিতে এসেছেন। মাকে দেখেই রাগে ক্ষোভ ঝাড়তে শুরু করেন ছোট্ট তৌসিফ। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বদলে যায় পুরো দৃশ্য। রিকশাচালক তাকে জানান, কিছুক্ষণ আগেই ছিনতাইকারীরা তার মায়ের পেটে ছুরি মেরে সঙ্গে থাকা সব কিছু ছিনিয়ে নিয়েছে। অথচ সেই রক্তাক্ত অবস্থাতেও কোনো হাসপাতালে না গিয়ে, কারো সাহায্য না চেয়ে শুধুমাত্র ছেলেকে একা না রাখার চিন্তায় তিনি ছুটে এসেছেন স্কুলে। ঘটনাটি স্মরণ করে তৌসিফ লিখেছেন, “আমার মা এমন রক্তাক্ত অবস্থায়ও কাউকে সাহায্যের জন্য না ডেকে, কোনো হাসপাতালে না গিয়ে বরং আমার স্কুলে চলে আসলো এটা ভেবে যে আমি একা কিভাবে থাকবো। এটাই হচ্ছে আমার মা।” অভিনেতার এই কথাগুলো মুহূর্তেই ছুঁয়ে যায় নেটিজেনদের হৃদয়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন– পৃথিবীর প্রতিটি মায়ের ভালোবাসা আসলে এমনই নিঃস্বার্থ। মায়ের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তৌসিফ আরও লেখেন, তার জীবনের আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে তার মায়ের। ছোটবেলা থেকে অসংখ্য ত্যাগ, যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে তাকে গড়ে তুলেছেন তিনি।

ছবি: সংগৃহীত স্ট্যাটাসের শেষদিকে পৃথিবীর সব মায়ের জন্য দোয়া করেন এই অভিনেতা। তিনি লেখেন, আল্লাহ যেন সব মাকে সুস্থ ও দীর্ঘায়ু দান করেন এবং তাদের সন্তানদের তৌফিক দেন, যাতে তারা মায়েদের সবসময় সুখে রাখতে পারে। একই সঙ্গে যারা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, সেইসব মায়েদের জন্যও মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

মা দিবসে তৌসিফ মাহবুবের এই আবেগঘন স্মৃতিচারণা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন– “এমন গল্প শুধু পড়া যায় না, অনুভব করতে হয়।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন