শনিবার
০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুদহার বাড়ায়েছে জাপান, বিপদে বাংলাদেশ

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ জাপান। এশিয়ার এ দেশটি থেকে ঋণও নেয় বাংলাদেশ। খুব অল্প সুদহারের জন্য জাপানের ঋণ বেশ সুবিধাজনক বাংলাদেশের মত দেশের জন্য। তবে, সম্প্রতি জাপান বৈদেশিক ঋণসহায়তার ক্ষেত্রে সুদহার বাড়ানোয় বিপদে বাংলাদেশ। এখন জাপান থেকে ঋণ নিতে বাড়তি সুদ দিতে হবে বাংলাদেশকে।

এ বিষয়ে জানিয়ে ঢাকায় জাপানের দূতাবাস থেকে গত ২৯ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, বৈদেশিক সহায়তা বা অফিশিয়াল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্সের পর্যালোচনা করেছে জাপান সরকার । এটি নিয়মিত পর্যালোচনার অংশ। এতে সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান সরকার। নতুন সুদের হার ও শর্তাবলি ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠির সঙ্গে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের জন্য সুদের হার ও শর্তাবলি যুক্ত করা হয়েছে। সেই তালিকা বিশ্লেষণ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, বিশেষ প্রকল্পের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং সাধারণ—এই তিন শ্রেণিতে জাপান ঋণ দেয়। কোনো ঋণের সুদের হার স্থির এবং কোনোটির পরিবর্তনশীল।

সর্বশেষ সাধারণ জাপানি ঋণের ক্ষেত্রে গত বছরের অক্টোবরেও সুদের হার (স্থির) ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ। সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে। অর্থাৎ, সুদের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। স্থির সুদের হারের ক্ষেত্রে আরও তিনটি বিকল্প রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সুদ একই হারে বেড়েছে। তিন বিকল্পের মধ্যে সর্বনিম্ন সুদের হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এত দিন ছিল ২ শতাংশ। আরও বিভিন্ন ধরনের ঋণ ও সুদের হার রয়েছে।

এর পাশাপাশি জাপানি নাগরিকদের জন্য পরামর্শক ফি বেড়েছে। তবে ঋণ পরিশোধের সময়কাল ও গ্রেস পিরিয়ড (যে সময়ের জন্য সুদ নেই) সময়সীমা অপরিবর্তিত রয়েছে। সাধারণ ও স্থির সুদহারের ঋণের ক্ষেত্রে পরিশোধের সময়সীমা ১৫ থেকে ৪০ বছর। গ্রেস পিরিয়ড ৫ থেকে ১০ বছর।

এদিকে সুদের হার বাড়ানোর ফলে জাপানের ঋণে প্রস্তাবিত তিনটি প্রকল্প ফেরত পাঠিয়েছে ইআরডি। প্রকল্প তিনটি হলো উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প (ইউজিডিপি), হাওর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্প এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উন্নয়ন প্রকল্প। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তিনটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।

ইআরডির একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, এত বেশি সুদে ঋণ নিয়ে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন লাভজনক হবে না। তাই তিনটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

জাপান তাদের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার মাধ্যমে বাংলাদেশের মেট্রোরেল, মহেশখালীর মাতারবাড়ীর বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, যমুনা নদীর ওপর নির্মিত রেলওয়ে সেতুসহ বিভিন্ন প্রকল্পে সাম্প্রতিক কালে ঋণ দিয়েছে।

জাপান বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী। বিদেশি ঋণ ও সহায়তা বিষয়ে ইআরডির প্রতিবেদন (২০২৪–২৫) বলছে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ (স্থিতি) ছিল ৭ হাজার ৭২৮ কোটি মার্কিন ডলার। এর ১৮ শতাংশই দিয়েছে জাপান।

বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঋণ পেয়েছে বিশ্বব্যাংকের আইডিএ (ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন) থেকে, যা মোট পরিমাণের ২৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), যাদের পরিমাণ ২৩ শতাংশ। তারপরই জাপান, রাশিয়া (১১ শতাংশ), চীন (৭ শতাংশ), ভারত (২ শতাংশ) এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অবস্থান। জাইকার সঙ্গে গত বছরের ২৭ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয় জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ঋণের চুক্তি করে। এ ঋণের সুদের হার ছিল ২ শতাংশ। ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৩০ বছর। পরামর্শক সেবা ছিল শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন