

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কলকাতার বিনোদন জগতে কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা ও ‘মি টু’ আন্দোলন নিয়ে ফের সরব হয়েছেন অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্যের পাশাপাশি, সঠিক বিচার ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত নিজের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।
কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি নাম উল্লেখ না করে দুই প্রভাবশালী প্রযোজকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন ঋতাভরী। পরে বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও পিটিশন জমা দিয়েছিলেন তিনি।
এতদিন নীরব থাকা নিয়ে অভিনেত্রী জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি অনেক বেশি ভীত ছিলেন। অভিযোগ করলে উল্টো তাকেই দোষারোপ করা হতে পারে কিংবা কাজ না পাওয়ার কারণ হিসেবে তার অভিযোগকে দেখানো হতে পারে এমন আশঙ্কা ছিল তার।
তবে সেই সময়ের ঘটনাগুলোর প্রমাণ তিনি নষ্ট করেননি বলেও জানিয়েছেন ঋতাভরী। তার দাবি, আপত্তিকর বার্তা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।
নিজের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অভিনেত্রী বলেন, এখন তিনি এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে অন্যায় বা যৌন নির্যাতনের চেষ্টা হলে আর নীরব থাকবেন না। তার ভাষায়, আজ আমার জীবনে এমন একটা জায়গা তৈরি হয়েছে, কেউ যদি এখন আমার গায়ে হাত দেয় বা যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে, তবে তাদের মাঝরাস্তায় উলঙ্গ করে দাঁড় করাব।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাউকে হেয় করার বা ‘ট্রায়াল গ্রাউন্ড’ বানানোর পক্ষপাতী নন ঋতাভরী। তিনি মনে করেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনি ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ায় বিচার হওয়া উচিত।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। কেরালার আলোচিত হেমা কমিটির প্রতিবেদনের আদলে বাংলার চলচ্চিত্রশিল্পেও একটি কাঠামোগত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলেছিলেন তিনি। এরপর নবান্নে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করেন ঋতাভরী।
অভিনেত্রীর দাবি, ওই বৈঠকে বিচারপতি, পুলিশ, আইনজীবী ও মনস্তত্ত্ববিদদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। টলিউডে নিরাপত্তা ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।
ঋতাভরী আরও জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের কাছেও তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পিটিশন জমা দিয়েছেন। তার অবস্থান সঠিক বিচার এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।
২০০৯ সালে ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ মেগার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া ঋতাভরী চক্রবর্তী বর্তমানে বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। ‘বহুরূপী’, ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’ ও ‘ফাটাফাটি’র মতো সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখিতেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। বাংলা সিনেমার বাইরেও ‘পরী’ ও ‘নেকেড’-এর মতো কাজেও অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী।
অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার কারণে ঋতাভরী চক্রবর্তী বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন।


