শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজার পরই দুই সিটি নির্বাচন: প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করেছে সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হলেও সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জয় অর্জনকে দলটির কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার-সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংশোধন করেছে। পাশাপাশি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। এসব সংশোধনী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পুনরায় নির্দলীয় পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

তবে এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে দলটির দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় পদ্ধতিতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এক বছর আগেই শুরু প্রস্তুতি

২০২৪ সালের আগস্টে আইন সংশোধনের পর অন্তর্বর্তী সরকার জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা ভেঙে দেয়। এরপর থেকে এসব প্রতিষ্ঠান প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদগুলো কার্যকর থাকলেও বহু চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় সেখানেও প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর। এতে স্থানীয় প্রশাসনে কার্যক্রমের গতি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

রমজানের পর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে- এমন সম্ভাবনা ধরে নিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট। ঢাকার দুই সিটির আওতাধীন একাধিক ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন এবং স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবদুল হালিম জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় বা স্থানীয়-সব ধরনের নির্বাচনের জন্যই সারাবছর প্রস্তুতি অব্যাহত থাকে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় সমর্থন কারা পাবেন, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

জোট থাকবে, মেয়র পদে ছাড় নয়

সংসদ নির্বাচনে জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে কয়েকটি আসন শরিকদের ছেড়ে দিলেও রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নিজস্ব প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে জামায়াত। যদিও কাউন্সিলর পদে সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যেসব নেতা জোটগত কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকায় সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী নির্ধারণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু হয়েছে।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে দল নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X