

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ভ্রাম্যমাণ ও ক্ষুদ্র দোকানে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে ডাকসু ও ছাত্রদল। পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
কমিটিকে অভিযোগের সত্যতা উদঘাটন করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মো. মিরাজ কোবাদ চৌধুরী (সহকারী প্রক্টর) কে আহ্বায়ক করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া (সহকারী প্রক্টর) এবং মিসেস ফাতেমা বিনতে মুস্তফা (এস্টেট ম্যানেজার, ভারপ্রাপ্ত)।
জানা গেছে, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে ভাঙচুর ও উচ্ছেদের একটি ভিডিও শেয়ার করে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং একদল শিক্ষার্থী।
সমাবেশে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘তারেক রহমানের যখন বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ এরপর থেকেই কতগুলো হত্যাকাণ্ড হলো :, চাঁদাবাজি হলো, গ্রুপে গ্রুপে মারামারি হলো।’
তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনার চাঁদাবাজদের থামান। নাহলে ছাত্রলীগকে যেভাবে বিতাড়িত করা হয়েছিল সেভাবে এদেরও বিতাড়িত করবে ছাত্রজনতা। আপনার দলের চান্দাবাজদের সামলান অন্যথায় এ দেশে দাঁড়ানোর জায়গা পাবেন না। জুলাই অভ্যুত্থানে পরবর্তীতে আর কোন চাঁদাবাজি দেখতে চাই না। অতি দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন, অন্যথায় আমরা ধরে নেব তারেক রহমান এর সাথে জড়িত।
এদিকে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে এ বিষয়ে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ছাত্রদলের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিগত সেপ্টেম্বর মাসে বিতর্কিত ডাকসু নির্বাচনের পর থেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় গড়ে ওঠা অসংখ্য ক্ষুদ্র ও ভাসমান দোকানকে কেন্দ্র করে অনলাইন ও অফলাইনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীগণের পক্ষ থেকে কতিপয় বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধি কর্তৃক প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা/কর্মচারীর যোগসাজশে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট সৃষ্টি করা এবং উক্ত সিন্ডিকেটের বাইরের সব দোকানকে ভাঙচুর ও উচ্ছেদের একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত হয়েছে। যা সামনে আসলে তার বিপরীতে এসব বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে জড়িয়ে চাঁদাবাজির ভুয়া অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে সহিংস মব তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে পরিলক্ষিত হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ৫ আগস্টের পর থেকে আজ অবধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন নেতাকর্মীর নামে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আনার নৈতিক অবস্থান না থাকলেও গত রাতে প্রায় দেড় মাস পূর্বে গৃহীত সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটের একটি ভিডিওকে কাটছাট করে অনলাইনে ছড়িয়ে এরকম ঘৃণ্য অপবাদ দিয়ে মব সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
ছাত্রদল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানায়, দাবিগুলোর প্রেক্ষিতে আজ রাত ৮ টার মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবিসমূহ বাস্তবায়ন না করলে অভিযুক্ত বিতর্কিত ডাকসু প্রতিনিধিগণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগ দাখিলের পর সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি ছাত্রদলের সেক্রেটারি নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, দুই মাস আগের একটি ভিডিওর ঘটনাকে সামনে এনে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগকে কেন্দ্র করে যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটিকে বিতর্কিত করতেই পুরোনো ঘটনাকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রাম্যমাণ ও ভাসমান দোকানগুলো কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কারা জড়িত এবং প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি কী-তা জানতে প্রশাসনের কাছে গিয়েছি। কিছু তথাকথিত শিক্ষার্থী রাতবিরেতে বিভিন্ন ইস্যু তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ও ঐতিহ্যকে কলুষিত করছেন, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য লজ্জাজনক।
অন্যদিকে, আজ দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংঘটিত ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর চাঁদাবাজির ডকুমেন্টারি বড় পর্দায় প্রদর্শন করেছে ডাকসু।
মন্তব্য করুন
