বৃহস্পতিবার
২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাকসুর মেয়াদ শেষের দিকে, পরের নির্বাচন কবে?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০০ এএম আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মেয়াদ শেষ দিকে চলে এলেও নতুন নির্বাচনের কোনো প্রস্তুতি এখনও দৃশ্যমান নয়।

ফলে পরের নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হবে, নাকি আগের মত ঝুলে যাবে, সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

বর্তমান ডাকসুর নির্বাচন হয় ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। ওই সময় এ নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল একচ্ছত্র জয় পাওয়া ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’।

তাদের ৩৬টি প্রতিশ্রুতির প্রথমেই ছিল প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে আসছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যমতে, এবারের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ডাকসু নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এমনকি ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্তির কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি।

এটিকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি অধরা থাকার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর চাপিয়েছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছি। সেটা সিদ্ধান্তও হয়েছে। এটা যদি তারা যুক্ত না করে, সেটা তাদের গাফিলতি।’

‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর সমাপনী বক্তব্য দিব। সেদিনেই তফসিল ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছি। এখন বাকিটা নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর।’

পরের নির্বাচনের ‘প্রক্রিয়া’ শুরু হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমাদের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। প্রত্যেক হলের প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে বসেছি। এরপর বর্তমান ডাকসু কমিটির সঙ্গেও বসেছি।’

‘তাদেরকে হলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট করতে বলেছি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বসব। তারপর সবকিছু বিবেচনা করে ডাকসু নির্বাচনের সময় ঘোষণা করা হবে।’

তবে ডাকসুর তফসিল কবে নাগাদ ঘোষণা হতে পারে-এমন প্রশ্নে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা প্রক্রিয়াধীন।’

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বৈঠক করে বর্তমান সংসদ। সেখানে পরের নির্বাচনের নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা বলেন জিএস এস এম ফরহাদ।

২০২৫ সালের আগে ডাকসু নির্বাচন হয় ২০১৯ সালে। তার আগের নির্বাচনের সঙ্গে সেই নির্বাচনের ব্যবধান ছিল ২৯ বছর।

সবশেষ নির্বাচনে ভিপি ও জিএসসহ ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে নয়টি জিতে নেয় ইসলামী ছাত্রশিবির সর্মথিত প্যানেল।

ভোটের লড়াইয়ে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রার্থীরা। তবে কোনো পদেই তারা জয়ের দেখা পাননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে সংস্কারের রূপরেখা দেওয়ার কথা তুলে ধরে গত ডাকসু নির্বাচনের ত্রুটিগুলোর সমাধান করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কেননা গতবারের ডাকসু নির্বাচন থেকে বলে আসছি যে সেটা প্রশাসনের সাজানো একটা নির্বাচন। এটা সুরাহা করতে হবে। গত ডাকসু নির্বাচন একটা বিতর্কিত নির্বাচন।

‘এটা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে কোথায় কোথায় ত্রুটি ছিল সেটা নিরূপণ করে আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য একটা সুষ্ঠু ডাকসু নির্বাচন চাই। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ থেকে যে অভিযোগগুলো এসেছিল পরবর্তী নির্বাচনের আগে সেগুলোর সঠিক সুরাহা প্রয়োজন।’

শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথা বলেন তিনি।

‘মেয়াদ বাড়বে বর্তমান কমিটির’?

১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে বর্তমান সংসদের মেয়াদ তিন মাস বাড়বে।

ডাকসুর গঠনতন্ত্রের ১৭ ধারায় বলা আছে, “নির্বাচিত পদাধিকারিরা ৩৬৫ দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। যদি নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হয়, তাহলে নির্বাচিত পদাধিকারিরা ৯০ দিন বা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ডাকসুর দায়িত্ব পালন করবেন।”

তবে নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। বলেন, ‘অতিরিক্ত সময় নেব না। আমরা চাই, যথাসময়ে ডাকসু নির্বাচন হোক। সময় শেষ হলেই দায়িত্ব ছেড়ে দেব।’

বাজেটও হয়নি

সবশেষ ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচন ব্যয় হয় প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। তবে এবার নির্বাচন আয়োজনের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের জন্য কোনো বাজেট রাখা হয়নি। যদি নির্বাচন হয়, সেটা ঘাটতি বাজেট থেকে হবে।’

মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি তুলেছেন অন্য ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘বিগত দিনেও বলে এসেছি, ডাকসুকে ক্যালেন্ডারভুক্ত করে প্রতিবছর নির্বাচন দেওয়া হোক। এবারও বলব, ডাকসুর এ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেন তফসিল ঘোষণা করে।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন