

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


একটি অনুষ্ঠানে বসার জায়গা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ গড়িয়েছে সংঘর্ষে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় অন্তত চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ সময় দুই বিভাগের একাডেমিক ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দিবারাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ক্যাম্পাসের নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছন এবং দুই বিভাগের একাডেমিক ভবন এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
আহত চারজনই রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁরা হলেন ফেরদৌস হাসান, সাজিদুর, নোমান ও সামিন। আহতদের মধ্যে ফেরদৌস হাসান ও সাজিদুরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিএসসিসিতে একটি অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধ পুরোপুরি থামেনি।
পরে নবাব আবদুল লতিফ হলের পেছনে রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা হামলা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী আহত হন।
এ ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনে গিয়ে ভাঙচুর করেন বলে জানা যায়। এ সময় ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল ছুড়লে রসায়ন বিভাগের আরও দুই শিক্ষার্থী আহত হন।
এরপর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা রসায়ন বিভাগের জাবির ইবনে হাইয়ান একাডেমিক ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সংঘর্ষে রসায়ন বিভাগের ফেরদৌস হাসানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা চেষ্টা করছি।’
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


