শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সহপাঠীদের ‘গোপন ছবি’ প্রেমিককে পাঠানো সেই ইবি ছাত্রী সাময়িক বহিষ্কার

ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
expand
সংগৃহীত ছবি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া নিজের প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে হল থেকে সাময়িক বহিষ্কার ও ব্যবহৃত মোবাইল জব্দ করেছে প্রক্টররিয়াল বডি। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী (ঐশী)। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুলাই-৩৬ হলে এ ঘটনা সামনে আসে।

ঘটনার পর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীরা।

একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী নাফিস ফুয়াদ আবিদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সময় তিনি সহপাঠী, রুমমেট এবং তাদের পরিচিতদের বিভিন্ন সময়ে তোলা ব্যক্তিগত ও সাধারণ ছবি অনুমতি ছাড়াই ওই ব্যক্তির কাছে পাঠান। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ও বিচ্ছেদের পর ওই ব্যক্তি ছবিগুলো প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সম্পর্ক চলাকালেই অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তার সাবেক প্রেমিক ছবিগুলো প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও জানান।

তাদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন যে তিনি ছবিগুলো অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই পেয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত প্রমাণও তাদের কাছে রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীও তাদের কাছে ছবি পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। তবে তিনি জানিয়েছেন, সে সময় তিনি কী করছেন, তা বুঝতে পারেননি।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় ছবিগুলো অন্য কোথাও ছড়িয়ে দেওয়া বা অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কায় তারা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। তাদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

প্রশাসনের কাছে তাদের দাবি, যেসব মাধ্যমে এসব ছবি রয়েছে, সেসব উৎস থেকে দ্রুত সব ছবি অপসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ ও অন্যের কাছে পাঠানোর ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, "ঘটনা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর থেকেই আমরা কাজ করছি। এখন পর্যন্ত চারটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কেউ অভিযোগ দিতে চাইলে আগামী রোববার পর্যন্ত দিতে পারবেন। অভিযুক্তের ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, “আমরা শুনার পরপর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ব্যাপারে জরুরি সভায় বসেছি। আপাতত হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আরিফা আক্তার, সদস্য হিসেবে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. খাইরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মুহা. কামরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন