বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই যোদ্ধাদের  ‘জঙ্গি’ আখ্যা, জাবি শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তার নাম শারাফাত শারিক রোহান।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে তাকে আটক করে জাকসু, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।আটককৃত রোহান জাবির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, বুধবার অভিযুক্ত রোহানের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে করা দুটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রথম পোস্টে রোহান লেখেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করে, দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে, শত শত নিরীহ মানুষের লাশের উপর পা মেরে রাজনীতি করা জুলাই জঙ্গিদের পতন সমাগত। সত্য প্রকাশিত হবেই ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ সত্যবাদীদের সাথে আছেন। জুলাই মুর্দাবাদ। মুক্তিযুদ্ধ জিন্দাবাদ। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।’

আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিতর্ক থাকতে পারে, তবে মুক্তিযুদ্ধ কোনো বিতর্কিত বিষয় নয়। যেই গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য ‘আমি কে তুমি কে, রাজাকার রাজাকার’ স্লোগান দিয়েছে ও অতি আবেগী সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপথগ্রস্ত করেছে এবং বিএনপির মতো তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধপন্থীদল তা সমর্থন দিয়ে প্রতারণা করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা সমান দোষে দুষ্ট। বামপন্থীদের একটা বড় অংশ জুলাই প্রতারণায় ছাত্রদল ও তথাকথিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে সরেজমিনে ভূমিকা রেখেছে। এরাও সেই নিকৃষ্টতম স্লোগানকে ডিফেন্ড করেছে এবং নির্লজ্জের মতো এখনো করছে। পট পরিবর্তন হলে আপনাদের সবাইকে এক মাপকাঠিতেই দেখা হবে। আপনারা সকলেই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। বিশ্বাসঘাতক। লক্ষ লক্ষ শহীদ, হাজার হাজার ধর্ষিতার প্রশ্নের জবাবে আপনারা কি বলবেন ঠিক করে রাখেন। আল্লাহ বুঝ দান করুক’।

পোস্ট দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত রোহানকে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত শারাফাত শারিক রোহান বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন বা কোনো প্রকার ছাত্রদল, শিবির বা কোনো প্রকার রাজনৈতিক দলের সাথে সংশ্লিষ্ট নই। আমি আমার পলিটিক্যাল আইডিওলজি বিভিন্ন সময় ফেসবুকে পোস্ট করেছি।’

ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই জঙ্গি, জুলাই মুরতাদ– শব্দ দুটি ব্যবহার করেছি, যা অনুচিত হয়েছে। জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের মানুষের আবেগের জায়গা এবং এখানে আঘাত করা আমার উচিত হয়নি। সেজন্য আমি অনুতপ্ত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

রোহান আরও বলেন, ‘এখানে জুলাইকে টার্গেট করা আমার মূল উদ্দেশ্য ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের ওপর যে আঘাত এসেছে, সেটাকে সমালোচনা করতে গিয়ে আমার শব্দচয়নে ভুল হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, ‘রোহানকে হল থেকে নিয়ে আসার সময় তার পোস্ট, ভিডিও ক্লিপে বেশ কিছু আলামত পাওয়া গেছে। এসব আলামতের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা প্রচলিত আইসিটি আইনের পরিপন্থী বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন জরুরি সভা করেছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা কতটুকু এবং অভিযোগগুলোর ভিত্তি কতটা তা নির্ধারণ করবে।’

প্রক্টর আরও বলেন, ‘আপাতত আইসিটি আইনের পরিপন্থী অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন