

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন, `জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে এই বাংলাদেশের জন্ম হতো না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বলেই আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র, নিজস্ব মানচিত্র ও একটি ভূখণ্ড পেয়েছি।‘
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জবি শাখা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ইউট্যাব জবি শাখার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, `১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে যখন পুরো জাতি দিকভ্রান্ত, তখন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে সাহস জুগিয়েছিলেন। তিনি শুধু ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, জেড ফোর্স গঠন করে মুক্তিযুদ্ধেও নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, ’জাতির প্রতিটি সংকটময় সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও জাতিকে সংকট মোকাবিলার যে দর্শন দিয়ে গেছেন, সেটিই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।’
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, `দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে হলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনকে ধারণ করতে হবে। আমরা এই দর্শনের প্রসারে কাজ করে যাব। তবে আমার আদর্শের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষার্থী কারও ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে না। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।‘
এ সময় `বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বট আইডির মাধ্যমে পরিচালিত প্রোপাগান্ডা এই ক্যাম্পাসে চলতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি বলেন, `বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল দর্শন হলো—বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের অভিন্ন পরিচয় ‘বাংলাদেশি’। ধর্ম, ভাষা, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই দর্শন জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি নির্মাণ করে।’
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হামিদুর রহমান হামিদ, এমপি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ। এবং সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।