

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফলিত গণিত বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সালেহা বেগম যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ফান্ড পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, মার্সেড, টুলেইন ইউনিভার্সিটি এবং টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি থেকে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
এর মধ্যে গবেষণার ক্ষেত্র, একাডেমিক পরিবেশ ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, মার্সেডে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বর্তমানে সালেহা বেগম বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গণিত বিভাগে এমএসসি অধ্যয়ন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিভাগটিতে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, ফল–২০২৬ সেশনের জন্য পাওয়া প্রতিটি অফারের আওতায় রয়েছে সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (জিটিএ), স্বাস্থ্যবিমা এবং সামার ফান্ডিং। এ ছাড়া টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটি তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘TTU Hutcheson Graduate Endowed Arts and Sciences Scholarship’-এর জন্যও মনোনীত করেছে।
নোবিপ্রবির ফলিত গণিত বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করেন সালেহা বেগম। তিনি বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনের পাশাপাশি ডিনস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। গবেষণাতেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এখন পর্যন্ত তাঁর চারটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছেন এবং আরও কয়েকটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
নিজের এই অর্জন প্রসঙ্গে সালেহা বেগম বলেন, ‘গ্রামের এক সাধারণ মেয়েরও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস ছিল। আমার বেড়ে ওঠা নোয়াখালীর একটি গ্রামে। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত সেখানেই পড়াশোনা করেছি। খুব বেশি সুযোগ-সুবিধা বা সব সময় ভালো শিক্ষকের সান্নিধ্য পাইনি, কিন্তু স্বপ্ন দেখা কখনো থামাইনি। ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময়ই নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম—একদিন পিএইচডি করব।’
তিনি বলেন, ‘আরেকটি ইচ্ছা ছিল—প্রচলিত সেই ধারণাটিকে ভুল প্রমাণ করা যে, মেয়েরা গণিতে ভালো হতে পারে না। আমি বিশ্বাস করি, গণিতের কোনো লিঙ্গ নেই; আছে শুধু আগ্রহ, অধ্যবসায় আর পরিশ্রম। সেই বিশ্বাস নিয়েই পথ চলেছি।’
নিজের একাডেমিক পথচলার বিভিন্ন অর্জনের কথা উল্লেখ করে সালেহা বলেন, ‘১৪তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াডে শীর্ষ ১০-এ স্থান অর্জন করি। পরে বুয়েটের গণিত বিভাগে এমএসসি ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনের সৌভাগ্য হয়। নোবিপ্রবির ফলিত গণিত বিভাগেও প্রথম স্থান অর্জন করি এবং ডিনস অ্যাওয়ার্ড লাভ করি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আজ আল্লাহর অশেষ রহমতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ পাওয়া আমার দীর্ঘ স্বপ্নযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তবে আমার স্বপ্ন এখানেই শেষ নয়। ভবিষ্যতে ফলিত গণিত ও মেশিন লার্নিং নিয়ে গবেষণা করে এমন কিছু করতে চাই, যা জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখবে।’
এই অর্জনের জন্য তিনি মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন। পাশাপাশি তাঁর গবেষণা-তত্ত্বাবধায়ক ড. কে. এম. আরিফুল কবির, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মেন্টর, পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সালেহা বেগম বলেন, ‘আজ মনে হয়, স্বপ্ন যদি সত্যিই নিজের হয় এবং তার জন্য নিরলস পরিশ্রম করা যায়, তাহলে নোয়াখালীর একটি ছোট্ট গ্রাম থেকেও বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দরজায় পৌঁছানো সম্ভব। আলহামদুলিল্লাহ, এই অর্জন আমার পথচলার শেষ নয়; বরং নতুন একটি যাত্রার শুরু। সবার দোয়া ও শুভকামনা চাই।’