

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত সাধারণসভা চলাকালে এক সাংবাদিকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধঘোষিত জবি ছাত্রলীগের কর্মী ও বর্তমান ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়কের বিরুদ্ধে।
তারা হলেন, নাট্যকলা বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাস ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী চন্দন কুমার দাস,ছাত্রলীগ থেকে ছাত্রদল নেতা বনে যাওয়া বর্তমান জবি ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে তাদের প্রত্যক্ষ মদদপুষ্টে বহিরাগতদের নিয়ে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া হয়।ঘটনার বৈধতা উৎপাদনে অনিক ফেসবুকে একটি বিতর্কিত পোস্ট দেন।যেটিও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাধারণসভার একপর্যায়ে কোন ছাড়াই ওই সময় নাহিয়ান বিন অনিকের অনুসারী অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাস ও চন্দন কুমার দাস তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন বহিরাগতদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য ও দৈনিক নাগরিক ভাবনার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অপূর্ব রায়ের ওপর হামলার নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থী হলেন প্রত্যয় চৌধুরী, শুভ নাথ ও প্রান্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যয় প্রথমে অপূর্ব রায়কে থাপ্পড় মারেন। এরপর শুভ ও প্রান্ত দেশীয় অস্ত্র ও বাঁশ নিয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে আহত সাংবাদিক অপূর্ব রায় বলেন, "পূর্বের একটি ঘটনার জের ধরে কেন্দ্রীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত সভার সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাস ও চন্দন কুমার দাসের সঙ্গে থাকা প্রত্যয় আমার গায়ে হাত তোলে এবং শুভ বাঁশ নিয়ে আমাকে আক্রমণ করতে আসে।"
এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র ফোরামের সদস্য সচিব জয় সাহা আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আহত সাংবাদিক অপূর্ব রায়কে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার দায় অস্বীকার জবি ছাত্রদলের যুগ্ন আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন অনিক জানান,আমার বিরুদ্ধে যে বা যারা নোংরামি ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমার পরিচয় সবাই জানে।এটা উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে করা হয়েছে।আমার পোস্টকে যেই বিতর্ক হয়েছে আমি সেটা তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছি যারা অপ-সাংবাদিকতা চর্চা করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. নঈম সিদ্দিকী বলেন, "ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। আহত শিক্ষার্থীকে আমি নিজ দায়িত্বে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এর আগেও অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাস ও চন্দন কুমার দাসের বিরুদ্ধে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছিল। সর্বশেষ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অর্ঘ্যশ্রেষ্ঠ দাস, চন্দন কুমার দাস কিংবা অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।