

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একইসঙ্গে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম রাশিদুল আলমের সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থীর অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অশোভন শব্দ চয়নেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।
সোমবার (১৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় ধর্ষকের কালো হাত, ভেঙে দেও, গুড়িয়ে দেও, প্রক্টরের অপমান, মানি না, মানবো না, ভিসি স্যারের অপমান, মানি না, মানবো না এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এই সময় পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন মোল্লা বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো অপরাধী গ্রেফতার না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি অতি দ্রুত অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আজকের এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ কোনো দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়। আমরা এখানে এসেছি একজন শিক্ষার্থীর ন্যায়বিচারের দাবিতে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানাতে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে গত কয়েকদিন ধরে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা একজন সচেতন শিক্ষার্থীর আচরণ হতে পারে না।
আরও বলেন, আমরা সবসময় জেনে এসেছি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একটি শান্তির ক্যাম্পাস। তাই আমরা সকল শিক্ষার্থীর প্রতি আহ্বান জানাই—বিভেদ ও উসকানি নয়, আসুন সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হই এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করি। আমাদের একটাই দাবি—দ্রুত বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা।"
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কামাল পাশা বলেন, " কিছুদিন আগে আমাদের এই ক্যাম্পাসে একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
দুঃখজনকভাবে, এই ঘটনার বিচার দাবির আন্দোলনকে ঘিরে কিছু শিক্ষার্থী আমাদের সম্মানিত শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমরা মনে করি, ন্যায়বিচারের দাবিকে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার না বানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করাই সবার দায়িত্ব।"
পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাকসুর পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক তানভীর রহমান বলেন, "জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীর ওপর ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার ১০০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অপরাধী গ্রেফতার না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তারা অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি জানানো হয়নি। একই সঙ্গে আন্দোলনের মূল দাবি থেকে সরে গিয়ে একটি গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।"
আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও প্রক্টরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং লাঞ্ছনার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও প্রয়োজন হলে ছাত্রত্ব বাতিলের দাবি জানান।
এ সময় শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে দ্রুত অপরাধী গ্রেফতার, সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য গত ১৭ তারিখ রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে প্রক্টরকে দেখে অশালীন ভাষায় গালাগালি ও মারতে উদ্যত হন একদল শিক্ষার্থী।