শনিবার
০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কার্ট মালিককে মারধর ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের অভিযোগ জাবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
জাবি ছাত্রদল নেতা
expand
জাবি ছাত্রদল নেতা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সেলিম রেজার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলাচলাকারী ইলেকট্রিক কার্ট শেকল দিয়ে বেঁধে রেখে সাড়ে নয় লাখ টাকা দাবি, কার্ট চালককে মারধর ও জোরপূর্বক ফাকাঁ স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা জানার পর, ভূক্তভোগির থেকে ‘চা-পানি’র খরচ নিয়ে সমোঝতার প্রস্তাব দিয়েছিলের শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মাজহারুল আমিন তমাল।

ভূক্তভোগী ইমন হাসান সূত্রে জানা যায়, তার কেনা ইলেকট্রিক কার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পরিবহন সেবা দিয়ে আসছে। তিনি এক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক বছর আগে সুদভিত্তিক ঋণ নিয়েছিলেন। গত ইদের আগ পর্যন্ত নিয়মিত সুদ পরিশোধও করেছেন। কিন্তু গত মাসে, শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সেলিম রেজা তার কর্মীদের নিয়ে কার্ট ইমন হাসানের কাছে আসে এবং নিজেকে ঋণদাতার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বাকী টাকা দাবি করেন ও হুমকি-ধমকি দেন। একপর্যায়ে কার্ট আটকে রাখার কথাও বলেন।

এ ঘটনার কয়েকদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ডিপোতে যেয়ে তিনটি কার্ট শেকলবদ্ধ করা হয় এবং দায়িত্বরত আনসারদের হুমকির সুরে বলা হয়, তাদের অনুমতি ছাড়া যেন কেউ কার্ট বের করতে না পারে। এ ভাবে কার্ট আটকে রেখে, একদিন মো. সেলিম রেজা তার দলবলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কার্ট মালিক ইমন হাসানকে ডেকে ১৬লাখ টাকা দাবি করে। তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে, কারা ১৬লাখ থেকে কমিয়ে নয় লাখ ৬০হাজার টাকা দাবি করে। এবং তৎক্ষণাৎ ৫০হাজার টাকা চায়। এরপর, ভূক্তোভোগী ইমনের থেকে জোরপূর্বক একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এর কয়েকদিন পর সেলিম রেজার দলবল ইমন হাসানের বাড়ি যেয়ে তাকে হুমকি, মারধর ও তার স্ত্রীর সাথে ও অসদাচরণ করে।

টাকা দাবির কল রেকর্ড থাকলেও এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি তার সাথে কখনো সাক্ষাৎও করিনি। বিশমাইলের বাস ডিপোতেও যাইনি।’

তবে, মো. সেলিম রেজার আরেক ভয়েজ রেকর্ডে পাওয়া যায়, তিনি বাস ডিপোতে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলছেন, “আমি বাস ডিপোতে গিয়েছিলাম অন্য কাজে। কার্টে তালা দেয়া সাথে কোনোভাবেই আমি যুক্ত নই যদিও আমার রিলেটিভ ওর কাছ থেকে টাকা পাওয়ার একটা ঘটনা সসম্পর্কে অভিহিত আছি।”

জানা গেছে, এ ঘটনা জানার পর সমোঝতার মাধ্যমে কার্ট ছাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন শাখা ছাত্রদলের আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মাজহারুল আমিন তমাল। তবে, তিনি সমোঝতার বিনিময়ে ‘চা-পানি’খরচ বাবদ কিছু টাকা দাবি করেন। ফলে, ভূক্তভোগির ধারণা করেন তিনিও সেলিম রেজার এ ঘটনায় জড়িত। পুরনো ছাত্রলীগীয় কায়দায় মধ্যস্ততা করতে এসছেন বলে তাকে বিশ্বাস করেননি ভূক্তভোগী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, অভিযুক্ত যুগ্ম-আহ্বায়ক মাজহারুল আমিন তমাল প্রথমে এ বিষয় অস্বীকার করেন। তবে, তার এ ঘটনার ভয়েজ রেকর্ড আছে- দাবি করলে তিনি বলেন, আমি জানার পর খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। শাখা ছাত্রদলের নবীন ভাইসহ আরও সাত থেকে আটজনও যোগযোগ করেছে। কিন্তু, আমি কোন টাকা দাবি করিনি।

উল্লেখ্য, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা ও অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত গালিব ইমতিয়াজ নাহিদের ছত্রছায়ায় এসব করেন বলে জানা যায়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি নাহিদ তিনটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক হন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন