

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো বিধায়কদের সামনে বক্তব্য দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বক্তব্যে তিনি রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় এবং আদর্শভিত্তিক রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শুক্রবার (০৮ মে) নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিধায়কের বৈঠকে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করেন। এরপরই তিনি বিধায়কদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী স্বামী বিবেকানন্দের দর্শনকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘চরৈবেতি’ মন্ত্র অনুসরণ করে দল ও সরকারকে এগিয়ে নিতে চান। কেননা আদর্শ ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে রাজ্যের উন্নয়ন সম্ভব।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছে এবং আগামী নির্বাচনে সেই সমর্থন আরও বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও তিনি জোর দেন।
শুভেন্দুর ভাষণে উঠে আসে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করলে পশ্চিমবঙ্গও উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থানের মতো উন্নয়নের সুবিধা পাবে।
তিনি বলেন, ‘মোদীজির মন্ত্র হোক ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ, সব কা বিশ্বাস, সব কা প্রয়াস’। কেন্দ্র-রাজ্য যৌথভাবে কাজ করে বাংলাকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে।’
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়েও বক্তব্য দেন তিনি। বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক ইস্যুতে কমিশন গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নারীর নিরাপত্তা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এসব কাজে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। তার দাবি, মানুষের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা ও ভয় ছিল, তা দূর করতে কাজ করবে নতুন নেতৃত্ব। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার প্রসারের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি দলের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রয়াত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করেন। দলের কর্মীদের ত্যাগের কথাও তিনি তুলে ধরেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও সংগঠন গড়ে তুলেছেন।
আগামী শনিবার সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
