

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মহাকাশপ্রেমীদের জন্য ২০২৭ সালের ২ আগস্ট হতে যাচ্ছে বিশেষ এক দিন। এদিন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেখা যাবে বিরল এক পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। এটি স্থলভাগ থেকে দৃশ্যমান দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গ্রহণের পূর্ণগ্রাস পর্যায় স্থায়ী হতে পারে প্রায় ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড।
সাধারণত পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সময়কাল তিন মিনিটেরও কম হয়। কিন্তু এবারের গ্রহণটি তুলনামূলক অনেক বেশি সময় স্থায়ী হবে। এ কারণে আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষকদের কাছে এটি ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের দক্ষিণাঞ্চল, উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু এলাকা থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। বিশেষভাবে মিশর, লিবিয়া, মরক্কো, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়ার আকাশে গ্রহণটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে। এছাড়া ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আংশিক গ্রহণ দেখা যেতে পারে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, গ্রহণের ছায়াপথ শুরু হবে আটলান্টিক মহাসাগরের দিক থেকে। পরে তা উত্তর আফ্রিকা পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হবে। মিশরের ঐতিহাসিক শহর লুক্সর ও আসওয়ানে পূর্ণগ্রাসের সময় সবচেয়ে দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ এলাকা থেকে এই গ্রহণ পুরোপুরি দেখা যাবে না। তবে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের কিছু স্থানে সূর্যাস্তের সময় আংশিক গ্রহণ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দীর্ঘ সময়ের গ্রহণের পেছনে রয়েছে পৃথিবী ও চাঁদের বিশেষ অবস্থান। ওই সময়ে পৃথিবী সূর্য থেকে তুলনামূলক দূরে থাকবে, আর চাঁদ থাকবে পৃথিবীর কাছাকাছি। ফলে চাঁদকে তুলনামূলক বড় দেখাবে এবং সেটি সূর্যকে দীর্ঘ সময় আড়াল করে রাখতে পারবে।
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয়। তখন দিনের বেলাতেও কয়েক মিনিটের জন্য নেমে আসে অস্বাভাবিক অন্ধকার।
