মঙ্গলবার
২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একের পর এক ঘটনায় জাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ

জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
সংগৃহীত
expand
সংগৃহীত

সম্প্রতি একাধিক ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের দাবি অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন তাদের জন্য “অপরাধ” হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে কিছুদিন আগে, যখন এস.আর পরিবহনের একটি বাস এক শিক্ষার্থীকে প্রায় চাপা দিতে যাচ্ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটিকে ধাওয়া করা হলে চালক থামার পরিবর্তে আরও বেপরোয়া আচরণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের বাইকের ওপর বাস তুলে দেন। পরে বাসটি থামানো হলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া কিছু ব্যক্তি ওই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়।

এ সময় ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থী বহনকারী একটি বাস যাওয়ার সময় তারা নেমে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে বাসটি ক্যাম্পাসে নিয়ে গিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে নবীনগরের একটি পেট্রোল পাম্পে। অভিযোগ রয়েছে, সিরিয়াল ভেঙে তেল নেওয়ার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীরনগরের এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায় এবং তার শরীরে তেল ঢেলে আগুন দেওয়ার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে গতকাল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হঠাৎ করেই একদল ব্যক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসের স্টাফের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পরপরই রাত আড়াইটার দিকে জাবি ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ৮০–৯০ জন শিক্ষার্থী বাসযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও মোহাম্মদপুর থানা-এর এক এসআইয়ের সহায়তায় তারা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন এবং হামলাকারীদের মোটরসাইকেলের নম্বর শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। তবে মূল অভিযুক্তের বাইকটি ক্যামেরার আওতার বাইরে থাকায় কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ঢাকা জেলা প্রশাসন-এর ডিসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানান এবং আল্টিমেটাম দেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিটি ঘটনায় প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অনেকেই উল্টো তাদেরই দোষারোপ করেন।

তারা প্রশ্ন তুলেছেন ‘আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, সেটাই কি আমাদের অপরাধ?’ তাদের মতে, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়ী করা অন্যায্য।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায় অন্যায় যেই করুক, দায় চাপানো হয় শিক্ষার্থীদের ওপরই।

তারা আরও বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন