

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমীদ খান রাইয়ানসহ একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৫টার দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাইয়ানের মরদেহ শনাক্ত করেন তাঁর স্বজন ও সহপাঠীরা।
এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন।
নিহত রাইয়ান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রাজবাড়ী জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির ২০২৫-২৬ সেশনের সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন। এই দুর্ঘটনায় রাইয়ানের মা ও তাঁর শিশু ভাগনেও প্রাণ হারিয়েছেন। তবে তাঁর বোনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
স্বজনরা জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথেই ঘটে এই দুর্ঘটনা। পরিবারের একসঙ্গে কয়েকজন সদস্যকে হারানোর শোকে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুর্ঘটনার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সোয়া ১১টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় ডুবে যাওয়া বাসটি টেনে তোলা হয়। বাসটির ভেতর থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাদের মধ্যে ১০ জন নারী, ৪ জন পুরুষ ও ২ জন শিশু ছিল। এর আগে আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। সর্বশেষ তথ্যমতে, এ দুর্ঘটনায় মোট ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে প্রাথমিকভাবে অল্প কয়েকজন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও পথিমধ্যে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। কাউন্টার সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।
রাইয়ানের মৃত্যুতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠীরা জানান, তিনি ছিলেন একজন মেধাবী, ভদ্র ও সক্রিয় শিক্ষার্থী। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন পরিচিত মুখ। তাঁর অকাল মৃত্যুতে সহপাঠী, বন্ধু ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন