

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণাকে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাস্ট) ওশেনোগ্রাফি বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থী।
মালয়েশিয়া, ওমান ও থাইল্যান্ডের তিনটি স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তারা গবেষণা ইন্টার্নশিপে অংশ নেবেন।
ওশেনোগ্রাফি বিভাগের স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. আবু ইউসুফ প্রধান, মো. সামছুল হক সায়ান, পূজা মিত্র, ফাইরুজ ফারিয়া সাইকা ও মো. নাইমুর রহমান আন্তর্জাতিক এই গবেষণা সুযোগ অর্জন করেছেন।
এর মধ্যে মো. আবু ইউসুফ প্রধান ও মো. সামছুল হক সায়ান মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি সাইন্স মালয়েশিয়া এর অধিভুক্ত ‘সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ’ এ গবেষণা ইন্টার্নশিপ করবেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি।
অন্যদিকে, পূজা মিত্র ও ফাইরুজ ফারিয়া সাইকা ওমানের সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ দিনব্যাপী গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নেবেন, যা আগামী মার্চ মাসে শুরু হবে।
একই সময়ে থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে গবেষণায় যুক্ত হবেন মো. নাইমুর রহমান।
মালয়েশিয়ায় গবেষণা চলাকালে আবু ইউসুফ প্রধান ও সামছুল হক কাজ করবেন “Designing a Marine Governance Strategy Grounded in Seagrass and Blue Carbon Evidence” শীর্ষক একটি প্রকল্পে।
এই গবেষণার মাধ্যমে সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং সামুদ্রিক নীতিনির্ধারণ–সংক্রান্ত বাস্তব দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন তারা।
ওমানের সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজা মিত্র ও ফাইরুজ ফারিয়া সাইকা কাজ করবেন Ecosystem-based marine research নিয়ে।
বিশেষ করে উপকূলীয় সল্ট মার্শ ও প্রবাল প্রাচীর ইকোসিস্টেমের Ecological Modelling ও Food-web Dynamics বিশ্লেষণের মাধ্যমে সামুদ্রিক পরিবেশের জটিলতা নিয়ে গবেষণা করবেন তারা।
থাইল্যান্ডে এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে মো. নাইমুর রহমান গবেষণা করবেন উপকূলীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি প্রকল্পে।
মালয়েশিয়ায় পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানে থাকবেন ইউনিভার্সিটি সাইন্স মালয়েশিয়ার সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজলিনা সালেহ।
ওমানের গবেষণা কার্যক্রমে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করবেন সুলতান কাবুস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট গবেষক ড. শচীনন্দন দত্ত।
পাশাপাশি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উভয় প্রকল্পের কো-প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর (Co-PI) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ওশেনোগ্রাফি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুব্রত সরকার।
এ বিষয়ে ড. সুব্রত সরকার বলেন, ‘এই পাঁচজন শিক্ষার্থী তাদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও গবেষণামুখী মানসিকতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সুযোগ অর্জন করেছে।
আমি তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এ ধরনের আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামুদ্রিক গবেষণাকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’’
অনুভূতি প্রকাশ করে মো. সামছুল হক সায়ান বলেন, ‘এই সুযোগটি পাওয়ায় আমি সত্যিই আনন্দিত। এটি আমাকে আরও বড় পরিসরে কাজ করার প্রেরণা দিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশা তৈরি করছে।
আমি ৩১ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় ইন্টার্নশিপে যাচ্ছি। তাই আমাদের শিক্ষার্থী ভাই-বোনদের চেষ্টা করলে তারা দেশ ও দেশের বাইরে ভালো ইনস্টিটিউটে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করতে পারবে বলে আশা করি।’
উল্লেখ্য, এই গবেষণা ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীরা পূর্ণ অর্থায়ন পেয়েছেন, যা সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রকল্পের তহবিল থেকে প্রদান করা হবে।
মন্তব্য করুন
