সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিভিইটিকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে (টিভিইটি) গৌণ বা বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে না দেখে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন নীতি-নির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পখাতের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকার সোবহানবাগে ড্যাফোডিল প্লাজায় ‘দক্ষ ও উৎপাদনশীল বাংলাদেশের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’-এ এ আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটস ফোরাম আয়োজিত এ সংলাপের ব্যবস্থাপনায় ছিল ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের বড় সম্ভাবনা। তবে শুধু জনসংখ্যা থাকলেই জনমিতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। শিল্পখাত, নতুন প্রযুক্তি এবং দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা তৈরির মাধ্যমে এ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।

তারা বলেন, শিক্ষাকে কর্মসংস্থানযোগ্যতা, উৎপাদনশীলতা, উদ্যোক্তা তৈরি ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থার সাফল্য শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রে কতটা অবদান রাখতে পারছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. এ. এন. এম. এহসানুল হক মিলন এমপি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব ও কর্মসংস্থান বিষয়ক) সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান।

সংলাপে বক্তারা টিভিইটি নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, শ্রমবাজারে কারিগরি দক্ষতার চাহিদা ও সুযোগ থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সামাজিক মর্যাদার কারণে প্রচলিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। এ কারণে কারিগরি পেশার মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জাতীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক সচেতনতা কার্যক্রম প্রয়োজন।

টিভিইটি শিক্ষার্থী, দক্ষ টেকনিশিয়ান, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তাদের সাফল্যের গল্প ব্যাপকভাবে তুলে ধরারও পরামর্শ দেন বক্তারা। এতে তরুণ ও তাদের পরিবার কারিগরি শিক্ষাকে সম্মানজনক ও লাভজনক পেশাগত পথ হিসেবে বিবেচনা করতে উৎসাহিত হবে বলে তাঁরা মনে করেন।

সংলাপে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, পাঠ্যক্রম তৈরি, দক্ষতার মান নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে নিয়োগদাতাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষানবিশি, ইন্টার্নশিপ ও কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উন্নত উৎপাদনসহ নতুন প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিভিইটি শিক্ষার পাঠ্যক্রম ও শিক্ষক-প্রশিক্ষকদের দক্ষতা নিয়মিত হালনাগাদ করার তাগিদ দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, শুধু সনদ বা ডিপ্লোমা দেওয়া নয়, শিক্ষার্থীর বাস্তব দক্ষতা ও কর্মসংস্থানযোগ্যতা নিশ্চিত করাই টিভিইটি ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। শিক্ষার্থীরা অর্থবহ কর্মসংস্থান পাচ্ছে কি না, কর্মক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে কি না, উদ্যোক্তা হতে পারছে কি না এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারছে কি না এসব বিষয়কে সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সংলাপে টিভিইটিকে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থা ও ক্যারিয়ারের মূলধারায় আনা, কারিগরি পেশার সামাজিক মর্যাদা বাড়ানো, শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম হালনাগাদ, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং শিক্ষানবিশি ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।

পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদ, বিদেশি ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানো এবং উচ্চ-মূল্যের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষায়িত দক্ষতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। টিভিইটি শিক্ষকদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা ও আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, শিল্পখাত ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়।

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বিপুলসংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠালেও তাঁদের বড় অংশ তুলনামূলক কম দক্ষ ও কম আয়ের কাজে নিয়োজিত। তাই শ্রম-রপ্তানিকারক দেশ থেকে বাংলাদেশকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করতে হবে।

এ জন্য বিদেশি নিয়োগকর্তা ও গন্তব্য দেশের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি দক্ষতা, ভাষা, যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সনদকে প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সংলাপে বাংলাদেশ কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সচিব মো. দাউদ মিয়া এনডিসি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংথেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন’ (এএসএসইটি) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মীর জাহিদ হাসান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ সরকারি সংস্থা, শিল্পখাত ও টিভিইটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিএন ফ্যামিলি ও সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ড্যাফোডিল পরিবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন