

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে একাধিক নতুন উদ্যোগ ও সংস্কারের আভাস মিলেছে। নারী শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তৃতিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নকে এবারের বাজেটের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। পাঠ্যক্রম সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং দক্ষতাভিত্তিক জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি নতুন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এ লক্ষ্যে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের ধারণা, এসব পদক্ষেপ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করবে।
সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাহিত্যচর্চা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে শিক্ষার অংশ হিসেবে আরও উৎসাহিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশ পায়।
এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধীরে ধীরে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাক্রমে নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্ব বিকাশের বিষয়গুলোকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনাও রয়েছে।
ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা।
তবে শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য শুধু নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থায়ন, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক অবকাঠামো এবং কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যবস্থা। তা না হলে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাগুলোর সুফল প্রত্যাশিত মাত্রায় পাওয়া কঠিন হতে পারে।
