বৃহস্পতিবার
১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই সীমান্তে যেতেই দিচ্ছে ধাওয়া, বন্দুকের মুখে অনাহারে ঘুরছেন বৃদ্ধ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ১১:২৭ পিএম
সংগৃহীত
expand
সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তকে আলাদা করেছে ১০৮২ নম্বর আন্তর্জাতিক পিলার। আর সেই পিলারের পাশেই প্রখর রোদ আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সারা দিন অনাহারে ঘুরছেন ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ। এই মুহূর্তে তিনি কোনো রাষ্ট্রেরই নাগরিক নন।

বাঁচার তাগিদে বৃদ্ধ যে সীমানাতেই একটু পা বাড়াচ্ছেন, সেদিক থেকেই আসছে ধাওয়া। একদিকে বিএসএফের বন্দুকের নল, অন্যদিকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির কঠোর পাহারা। কোনদিকে যেতে না পেরে মাঝখানে আটকা পড়েন।

এমন চরম অনিশ্চয়তার মাঝে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের স্থানীয় গ্রামবাসীরা। বিজিবির নজরদারির ফাঁকে স্থানীয়রা বৃদ্ধের কাছে সামান্য পানি ও শুকনা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন, যা খেয়েই কোনো রকমে টিকে আছে তার প্রাণ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাত থেকে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর-রামরামপুর সীমান্তের ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ (শূন্য রেখা) অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে বৃদ্ধের। বুধবার (১০ জুন) বিকেল পর্যন্ত এমন অমানবিক দৃশ্য দেখা গেছে।

এর আগে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এই বৃদ্ধকে বাংলাদেশের সীমানায় পুশইন করার চেষ্টা করেছিল। এ সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বাধা দিলে তিনি শূন্য রেখায় অবস্থান শুরু করেন। তাকে ভারতের অব্যন্তরেও যেতে দেওয়া হয়নি।

সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা জানান, গত শনিবার (৬ জুন) ভোররাতে রামরামপুর সীমান্তের আন্তর্জাতিক পিলারের পাশ দিয়ে সাতজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ।

তবে বিজিবি এবং সীমান্ত সংলগ্ন স্থানীয় গ্রামবাসীদের কঠোর ও যৌথ প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের সেই পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পুশইনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জন অন্ধকারের সুযোগে ভারতে ফিরে গেলেও আটকা পড়েন ষাটোর্ধ্ব এই বৃদ্ধ।

স্থানীয় বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল নিজের চোখে দেখা এই নির্মমতার বিবরণ দিয়ে বলেন, 'শুধু মুসলিম হওয়ার কারণে একজন বৃদ্ধ মানুষকে কাঁটাতারের বেড়া পার করে পুশইন করার চেষ্টা হয়েছে।

না পারছে ভারতে যেতে, না পারছে বাংলাদেশে আসতে। অনাহারে থাকা মানুষটি যেদিকে যায়, সেদিক থেকেই ধাওয়া দেওয়া হচ্ছে। এমন অমানবিক দৃশ্য নিজের চোখে দেখে ভীষণ খারাপ লাগছে।'

সীমান্তের এই জটিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পরও বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে তাদের দেশের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করে। ফলে কোনো সুরাহা ছাড়াই শেষ হয় দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠক।

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, 'বিএসএফ একজনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল, আমরা সতর্ক অবস্থান নিয়ে তাকে প্রতিহত করেছি। লোকটি এখনো শূন্যরেখায় রয়েছে। তবে বর্তমানে আমাদের সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও শান্ত রয়েছে।'

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন