

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পুরান ঢাকার সদরঘাট ও বাংলাবাজারের ব্যবসায়ী এলাকায় সকাল থেকেই ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। দোকান-পাট খোলা থেকে শুরু করে , ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে এলাকার ভোট সংক্রান্ত আলোচনা চলছে। সরু গলিতে মানুষের ভিড়, পুরোনো ভবন আর ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির মধ্যে নির্বাচনী আলাপ।
ঢাকা-৬ আসন দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এর অন্তর্ভুক্ত সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি থানার একাংশ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, মহল্লার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট- বাজার—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রে নির্বাচন। কে আসবে, কে যাবে, আদৌ কোনো পরিবর্তন আসবে কি না ইত্যাদি নিয়ে আলাপ।
আনুষ্ঠানিক প্রচারের পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের নিয়ে ঘরোয়া বৈঠক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কুশল বিনিময় করছেন প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারির প্রতীক বরাদ্দের পর আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।
সদরঘাটের নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, "দেশকে সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা চাই নতুন ধারাকে পরিবর্তন করতে, পুরানো ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে প্রকৃত পরিবর্তন আসুক। সমাজকে চাঁদাবাজি মুক্ত এবং সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুবী, যাতে সবাই ভয়ে নয় স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে পারে।"
২৭ বছর ধরে পুরান ঢাকার কোতোয়ালি থানার পেছনে ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে থাকে ইলিয়াস খান। পেশায় ফুচকা বিক্রেতা ইলিয়াস খান বলেন, 'আগে যেখানে যেতাম, সেখানে চাঁদা দিতে হতো। এবার যিনি নির্বাচনে জয়ী হবেন, তাঁর কাছে একটাই প্রত্যাশা—চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি যেন না থাকে।'
সূত্রাপুরে বসবাসকারী বিলাল হোসেন সদরঘাট এলাকায় ফাস্টফুড বিক্রি করেন। তিনি বলেন, 'আমাদের পুরান ঢাকায় ড্রেনেজ (নালা) সমস্যা, রাস্তার সমস্যা। চারদিকে সমস্যা আর সমস্যা। যিনি নির্বাচিত হবেন, তাঁকে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে।'
কলতাবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা শিক্ষক আয়েশা বেগম বলেন, 'ভোটের আগে সবাই এত এত প্ৰতিশ্ৰুতি দেয়, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে উন্নয়ন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আগে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা পর্যন্ত ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। চারদিকে এত অরাজকতা ছিল, যা কল্পনার বাইরে। আশা রাখছি, এবার যাঁরা ক্ষমতায় আসবেন, তাঁরা জনগণের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করবেন।”
ইসির তালিকা অনুযায়ী, এই আসনের বৈধ প্রার্থী পাঁচজন। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ইশরাক হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল মান্নান, গণফ্রন্টের আহম্মেদ আলী শেখ, গণঅধিকার পরিষদের মো. ফখরুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির আমির উদ্দিন আহমেদ (ডালু)।
গণফ্রন্টের প্রার্থী আহম্মেদ আলী শেখ বলেন, ‘নির্বাচিত হলে জনগণের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, বাসস্থান এবং খাদ্যসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করব। আশা করি, জনগণ গতানুগতিক রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে তাদের সমস্যা ও স্বার্থ নিয়ে যাঁরা সত্যিকার অর্থে কাজ করতে চান, তাঁদেরই নির্বাচিত করবেন।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান বলেন, 'আমরা এই আসনকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দখলবাজমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব। জনগণ জানে আমরা কি করতে পারি। তাই আমি আশা করি, আগামী নির্বাচনে ঢাকা-৬-এ সাইলেন্ট (নীরব) বিপ্লব হবে।”
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, 'প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই আমরা সরাসরি মাঠে নামব। পুরান ঢাকাকে যানজটমুক্ত রাখা, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।'
এ ব্যাপারে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
