

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তারা আমাদেরকে বলে আমরা নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। অথচ বিএনপি সরকারের সময়ে তাদেরই দুজন নেতা মন্ত্রিসভায় ছিলেন। আমরা যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হতাম, তবে তারা তখন পদত্যাগ করলেন না কেন? আসলে তাদের কোনো রাজনৈতিক জনভিত্তি নেই বলেই তারা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কেট হাউস ময়দানে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকার সমস্যা সমাধান করা হবে বলে ঘোষণা দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, মানুষের জন্য রাজনীতি করি, দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা শুধু বিএনপির আছে। সমস্যার সমাধান করতে চাইলে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, পালানো স্বৈরাচারের ভাষায় কথা বলছে একটি দল। দুর্নীতি নিয়ে মিথ্যাচার করছে। অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে এগোনো যায় না, এজন্যই ফ্যামিলি কার্ড।
আমি-ডামি ও নিশিরাতের ভোট সবার অধিকার কেড়ে নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর আগে বিকেল ৪টার পর ময়মনসিংহ সার্কেট হাউস ময়দানে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভার মঞ্চে উঠেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনসভায় জেলার বাইরে থেকে বাস ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে আসা নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। নেতাকর্মীরা জানান, তাদের চেয়ারম্যানকে কাছ থেকে একনজর দেখার জন্য আগেভাগেই জনসভায় উপস্থিত হয়েছেন।
এরও আগে সকাল ১১টা ৫ মিনিটে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গাড়ি বহর। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ময়মনসিংহ ও জামালপুর অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এলাকায় দীর্ঘদিন কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে এসেছে।’
তিনি ঘোষণা করেন, এ অঞ্চলে মাছ চাষকে শিল্পে রূপান্তর করা হবে; যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদেরকে সরাসরি সেবা দিতে 'কৃষি কার্ড' দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষক সরাসরি সরকারি সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ হাতে পাবেন।
জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, কৃষিতে পানির অভাব দূর করতে খাল পুনর্খনন করা হবে। তিনি স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের পর আপনারা কোদাল ধরলে আমি আপনাদের সাথে থাকবো।’
নারীদের বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া মেয়েদের ১ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা সেই ধারা বজায় রেখে নারীদের অভাব অনটন দূর করার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করবো, যা প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’
তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মাদকের অভিশাপ থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে হলে কর্মসংস্থান জরুরি। আমরা আইটি সেক্টরে ব্যাপক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো; যাতে আমাদের তরুণরা ঘরে বসেই বিশ্ব জয় করতে পারে।’
স্বাস্থ্যসেবা ও মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, জেলা হাসপাতালের ওপর চাপ কমাতে ইউনিয়ন পর্যায়ে পল্লী চিকিৎসকদের মাধ্যমে উন্নত সেবার ব্যবস্থা করা হবে। শিশু ও মা-বোনদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ঘরে ঘরে হেলথকেয়ার সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সম্মানজনক বেতনের ব্যবস্থা করবে বিএনপি সরকার।
এই কর্মসূচি উপলক্ষে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম জানান, সর্বশেষ ২০০৪ সালে তারেক রহমান ময়মনসিংহে ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভা করেছিলেন। প্রায় ২২ বছর পর নেতার এই আগমনে এলাকার মানুষ উচ্ছ্বসিত। জনসভায় তিনি বিভাগের ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুরের ২৪টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন।
সফর থেকে ঢাকা ফেরার পথে আরও ২ জায়গায় সমাবেশে অংশ নেবেন তারেক রহমান।
এর মধ্যে গাজীপুর রাজবাড়ী মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় ও সন্ধ্যা ৭টায় উত্তরা আজমপুর ঈদগাঁও মাঠে সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি।
মন্তব্য করুন

