

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন এবং হিংসার জেরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রত্যাখ্যাত প্রেমিক মাহীর রহমান নিজের প্রেমিকা বার্জিস শাবনাম বর্ষাকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে জোবায়েদকে ডেকে এনে খুন করেন।
মাহীর ও বর্ষার নয় বছরের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর বর্ষা তার গৃহশিক্ষক জোবায়েদের প্রতি আকৃষ্ট হন। এ খবর জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন মাহীর। এরপর বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে বর্ষার বাসাতেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত এক বছর ধরে বর্ষাকে পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান পড়াতেন জোবায়েদ। এই সময়ের মধ্যে বর্ষার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।
অপরদিকে বর্ষার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় মাহীরের মনে ক্ষোভ জন্ম নেয়।
জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, মাহীর বন্ধুদের সহযোগিতায় জোবায়েদকে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করে। বর্ষার কাছ থেকে জোবায়েদের সময়সূচি ও অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য নেয় সে।
ঘটনার দিন বর্ষা ও মাহীরের একাধিকবার ফোনে কথা হয়। একই সময়ে বর্ষার ফোন থেকে জোবায়েদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে পুলিশের হাতে থাকা কললিস্ট বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে।
রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর আরমানিটোলার একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় জোবায়েদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সিসিটিভি ফুটেজে দুই তরুণকে দ্রুত পালাতে দেখা গেছে, যাদের একজন মাহীর বলে সন্দেহ করছে তদন্ত দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাহীর স্বীকার করেছে, ঘটনাস্থলে সে ও তার দুই বন্ধু উপস্থিত ছিল।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে ছুরি চালিয়ে জোবায়েদকে গুরুতর আহত করে সে নিজেও হাত কেটে ফেলে।
পুলিশ বলছে, জোবায়েদ হত্যায় তিনজন সরাসরি অংশ নেয়—এর মধ্যে একজন পলাতক যুবক নাফিস, অন্যজনের নাম এখনও জানা যায়নি।
হত্যার পরদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও চাপের মুখে সোমবার সকালে মাহীরের মা রেখা খাতুন নিজেই ছেলেকে বংশাল থানায় নিয়ে যান। তবে থানা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে আটক স্বীকার না করলেও, মাহীরের খালু নিশ্চিত করেন যে সকালেই তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে বংশাল ও লালবাগ থানার যৌথ টিম রাতে রাজধানী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে, যা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
জোবায়েদের পরিবার সোমবার পর্যন্ত থানায় মামলা করতে না পারলেও পাঁচজনকে অভিযুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে—ছাত্রী বর্ষা, তার বাবা-মা, মাহীর রহমান ও তার বন্ধু নাফিসকে। তবে পুলিশ বলছে, তারা যে নাম দেবে, সে অনুযায়ী মামলা নেওয়া হবে।
বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জানাজা শেষে মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়। নিহতের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে স্থানীয় ছাত্রদল বিক্ষোভ করেছে।
মন্তব্য করুন
