

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রায় ৪১৬ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে জনতা ব্যাংকের ১০ জন সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তাদের মধ্যে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এবং মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক সূত্র।
আজ বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এসকল কর্মকর্তাদের জেরা করে দুদক। এর আগে ৮ জুলাই এক চিঠিতে তাদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেড নামীয় একটি প্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল অঙ্কের ঋণ সুবিধা অনুমোদন করা হয়। পরে ভুয়া "Accommodation Bill" তৈরি করে ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ ৮৭ হাজার ৭১২ টাকা বিভিন্ন উপায়ে আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচার করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এই ঋণ অনুমোদন এবং বিতরণের সময়ে তলবকৃত কর্মকর্তারা বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। দুদক মনে করছে, এই ঋণ আত্মসাতের পেছনে এদের সবার ভূমিকা রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এনপিবি নিউজকে বলেন, 'এরকম একটি জঘন্য ঋণের ঘটনা একজন দুইজনের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। এখানে যাদেরকে ডাকা হয়েছে তারাও কোনো না কোনোভাবে জড়িত রয়েছেন বলেই ধারণা করছি আমরা। এর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আরো কর্মকর্তাদের ডাকা হবে।
দুদকের তলব করা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন-
উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মরতুজা, মো. কামরুল আহসান, ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মহাব্যবস্থাপক মো. আশরাফুল আলম, মোসাঃ আম্বিয়া বেগমসহ ১০ কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের একজন কর্মকর্তা এনপিবি নিউজকে জানান, 'আজকের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ও সূত্র পাওয়া গেছে। সেগুলো আমলে নিয়ে আরো বিশদ তদন্ত করা হবে। তদন্তে দোষীদের অপরাধ যথাযথভাবে প্রমাণ করে মামলা করা হবে। এতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে দুদক কাজ করবে।'
দুদক সূত্র বলছে, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তদন্ত কর্মকর্তারা ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া, বোর্ড ও ঋণ কমিটির ভূমিকা, নথিপত্রের সত্যতা এবং অর্থের গন্তব্য নিয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান করবেন। প্রয়োজনে নতুন ব্যক্তিকেও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হতে পারে।