

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ ।
২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮৩ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান।
সাঈদী দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসন থেকে দলটির প্রার্থী হিসেবে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দলটির নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৪০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিরোজপুরে জন্ম নেওয়া সাঈদী তার পিতা মাওলানা ইউসুফ সাঈদীর প্রতিষ্ঠিত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি ও অন্যান্য বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণায় যুক্ত হন।
১৯৬৭ সাল থেকে তিনি ইসলামী বক্তা হিসেবে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে কোরআনের তাফসির ও ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি পান। তার বক্তব্যের অডিও-ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশে-বিদেশে তার বড় অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি হয়।
রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটির কেন্দ্রীয় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে তিনি ৫৫ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে একই আসনে তার ভোট ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ১০৮।
তবে তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাও তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আপিল বিভাগ ২০১৪ সালে সেই সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।
মৃত্যুর আগে তিনি কাশিমপুর কারাগারে আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।
সাঈদীর চিকিৎসা নিয়ে মৃত্যুর পর বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি ও বক্তব্য আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তার চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা আন্তর্জাতিক চিকিৎসা প্রটোকল অনুসরণ করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবেই দেখা উচিত।
মৃত্যুর তিন বছর পর আজ তার রাজনৈতিক জীবন, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে ঘিরে তার দীর্ঘ বিতর্কিত অধ্যায় আবারও আলোচনায় এসেছে।

