রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে অতিরিক্ত মদ্যপানে চার দিনে ৭ জনের মৃত্যু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে বিষাক্ত অ্যালকোহল অথবা অতিরিক্ত মদ্যপানের ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে লাখাই উপজেলায় ছয়জন এবং বাহুবল উপজেলায় একজন মারা গেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরপর এসব মৃত্যুর ঘটনায় জেলায় উদ্বেগ, আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অবাধে অ্যালকোহল বিক্রি, এর উৎস, মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী ইউনিয়নের ডুবাঐ পশ্চিম বিজলী গ্রামের অন্তর বৈদ্য (২৮) গত ৩০ জুলাই রাতে বাহুবল সদর এলাকায় বোনের বাড়ির একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে অতিরিক্ত মদ্যপানের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে তাকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, লাখাই উপজেলায় একের পর এক ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র ও নিহতদের স্বজনদের দাবি, উপজেলার মোড়াকরি বাজারের একটি হোমিওপ্যাথিক ফার্মেসি থেকে কেনা অ্যালকোহল পান করার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরুতে অনেকেই এটিকে হৃদরোগ বা স্ট্রোক ভেবেছিলেন। কিন্তু ধারাবাহিক মৃত্যুর পর বিষাক্ত অ্যালকোহলের আশঙ্কা সামনে আসে।

এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মোড়াকরি গ্রামের সুজিত দাস (৩৬), সুদেব দাস (৬৫), সুজিতের বোনজামাই রণজিৎ কুরি (৪০), ভাদিকারা গ্রামের নন্দলাল (৫২), তার স্ত্রী সুবি রবি দাস (৪০) এবং রাঢ়িশাল গ্রামের এক অজ্ঞাতনামা যুবক। এছাড়া মোড়াকরি গ্রামের বিপ্লব দাস (৩৫) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই সুজিত দাস, রণজিৎ কুরি, সুদেব দাস ও বিপ্লব দাস একসঙ্গে অ্যালকোহল পান করেন। এরপর তাদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। ওই রাতেই মারা যান সুজিত দাস ও রণজিৎ কুরি। ৩০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুদেব দাস। পরে নন্দলাল, তার স্ত্রী সুবি রবি দাস এবং রাঢ়িশাল গ্রামের ওই যুবকেরও মৃত্যু হয়।

নিহত সুদেব দাসের দুই মেয়ে অঞ্জু রানী ও সঞ্জু রানী বলেন, তাদের বাবা দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপান করলেও আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। তাদের অভিযোগ, বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করার কারণেই এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।

চিকিৎসাধীন বিপ্লব দাসের ভাই রুবেল ও বোন মুক্তা রানীও অভিযোগ করেন, সন্দেহজনক বিষাক্ত পদার্থ সেবনের কারণেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

জানা গেছে, লাখাইয়ের ঘটনায় অধিকাংশ মরদেহ দাহ করা হয়েছে। তবে অন্তত একজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ভিসেরা পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো বিষাক্ত অ্যালকোহলকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে, পরপর সাতটি মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে অ্যালকোহল বিক্রির বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। তারা অবিলম্বে জেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অ্যালকোহল বিক্রির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা, বিক্রির উৎস শনাক্ত, দায়ীদের আইনের আওতায় আনা, মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন