

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারো বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯ সেন্ট বা ০.১ শতাংশ বেড়ে ৮৭.১৬ ডলার হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১.২৯ ডলার।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছিল। তবে ব্রেন্ট ক্রুড টানা ছয় সেশন এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড টানা পাঁচ সেশন বাড়ার পরও চলতি সপ্তাহে দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে।
এদিকে, ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান হোসেইন তাইয়েব বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে চাপ তৈরি করছে।
তবে এর বিপরীতে তেলের চাহিদা নিয়ে আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস কিছুটা দুর্বল হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ওপেক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ্তাহিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এটিও তেলের দাম বৃদ্ধির ওপর চাপ তৈরি করছে।
কেসিএমের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের বাজারে বর্তমানে দুটি বিপরীতমুখী শক্তি কাজ করছে। একদিকে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দামকে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে দুর্বল চাহিদার পূর্বাভাস দামকে বেশি বাড়তে দিচ্ছে না।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডনক) দুটি জাহাজে হামলা হয়েছে বলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার এ হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। হামলার ফলে হরমুজ প্রণালি ও বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

